Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৩০, ২০২৬

এক দিনে ২৬৭ আধিকারিক অপসারণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, হাইকোর্টে মামলা দায়ের 

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এক দিনে ২৬৭ আধিকারিক অপসারণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, হাইকোর্টে মামলা দায়ের 

রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার পরপরই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এক দিনের মধ্যে বিডিও, ওসি-সহ মোট ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মামলা দায়ের করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে।

সোমবার আদালতে এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন রবিবার রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশে বড়োসড়ো রদবদল করে। ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ মোট ১৭০টি থানার ওসিকে সরানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিককে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদেরও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের বিডিও-ও এই তালিকায় রয়েছেন।

আর জি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিতর্কিত টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে পর্ণশ্রী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাতে প্রকাশিত ৩১টি থানার ওসি বদলির তালিকায় তাঁর নাম ৬ নম্বরে ছিল। উল্লেখ্য, ঘটনার সময় তিনি টালা থানার ওসি ছিলেন এবং এই মামলায় সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। তালিকা প্রকাশের পরই কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন ওঠে—যেখানে একজন অফিসারের বিরুদ্ধে এখনও সিবিআই তদন্ত চলছে, সেখানে তাঁকে কীভাবে থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হল? এই নিয়ে চাপে পড়ে কমিশন। পরে গভীর রাতে সিইও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত অন্যান্য আধিকারিকদের জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে অভিজিৎ মণ্ডলের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছিল এবং তিনি দায়িত্ব নেবেন না। ফলে পর্ণশ্রী থানার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই বহাল থাকবেন।

এদিকে পুলিশ মহলের একাংশের দাবি, যাঁদের নতুন করে বিভিন্ন থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই থানায় কাজ করার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। ফলে কমিশনের এই রদবদল নিয়ে ‘হোমওয়ার্কের অভাব’ ও ‘অপেশাদারিত্ব’-এর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বদলির তালিকায় দক্ষিণ কলকাতা, মধ্য কলকাতা ও উত্তর কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হয়েছেন এসটিএফ-এর ইন্সপেক্টর সৌমিত্র বসু। কালীঘাট থানার দায়িত্বে এসেছেন উৎপলকুমার ঘোষ। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসি হয়েছেন শুভদীপ চক্রবর্তী। নিরুপম নাথকে একই সঙ্গে মানিকতলা ও পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি ঘোষণা করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আলিপুর থানার ওসি হয়েছেন প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী এবং একবালপুর থানার দায়িত্ব পেয়েছেন সোমনাথ বিশ্বাস। হরিদেবপুর থানার ওসি হয়েছেন ফৈয়াজ আহমেদ, রাজাবাগান থানার দায়িত্বে প্রসেনজিৎ ধর এবং গার্ডেনরিচ থানার ওসি হয়েছেন দিলীপ সরকার। নারকেলডাঙা থানার ওসি হয়েছেন মনোজকুমার বিশ্বাস, এন্টালি থানার দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস মণ্ডল এবং জোড়াসাঁকো থানার ওসি হয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের সুশান্ত মণ্ডল।

এছাড়া পাটুলি থানার ওসি জয়ন্ত সরকার, গড়িয়াহাট থানার প্রশান্ত মজুমদার এবং গিরিশ পার্ক থানার দায়িত্বে এসেছেন সিকিউরিটি কন্ট্রোলের সুমিত ঘোষ। নিউ মার্কেট থানার ওসি হয়েছেন রিজার্ভ ফোর্সের প্রবীরচন্দ্র মণ্ডল। হেয়ার স্ট্রিট থানার দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব সাহু, বউবাজার থানার ওসি হয়েছেন রাজীব সরকার এবং ওয়াটগঞ্জ থানার দায়িত্বে এসেছেন সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়। টালিগঞ্জ থানার ওসি হয়েছেন সুমন নস্কর, লেক থানার দায়িত্বে গৌরাঙ্গ হালদার এবং তারাতলা থানার ওসি হয়েছেন কৌশিক সিংহরায়। বেহালা থানার ওসি জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়, ঠাকুরপুকুর থানার দায়িত্বে ট্রাফিক বিভাগের লোপসাং শেরিং ভুটিয়া এবং বড়বাজার থানার ওসি হয়েছেন সুনীল দেবনাথ। পোলেরহাট থানার ওসি হয়েছেন শুভম গুহ এবং ভাঙড় থানার দায়িত্ব পেয়েছেন পিটিএস-এর দেবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। নাদিয়াল থানার ওসি হয়েছেন অরিন্দম পান্ডা এবং মুচিপাড়া থানার দায়িত্বে এসেছেন জ্যোতির্ময় বসু।

জেলার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব মেদিনীপুরে সবচেয়ে বেশি—১৪ জন বিডিও ও এআরও-কে বদলি করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বদলি হয়েছেন ১১ জন। এই ব্যাপক বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণত রাষ্ট্রপতি শাসনের সময় দেখা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কি তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে? অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তিও আদালতে পেশ করেছে। এর আগেও শীর্ষ আধিকারিকদের অপসারণের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কল্যাণ। এবার আবার একযোগে এত সংখ্যক বিডিও ও ওসির অপসারণ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তিনি নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!