Advertisement
  • দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

ছয় মাসেই লক্ষ্যপূরণ, দেশের পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষ পথে বাংলা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছয় মাসেই লক্ষ্যপূরণ, দেশের পর্যটন মানচিত্রে শীর্ষ পথে বাংলা

পর্যটনে নজির গড়ে দেশের প্রথম সারিতে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। কেরল, কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থানের মতো রাজ্যকে পিছনে ফেলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে এখন দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা। এবার লক্ষ্য এক নম্বর হওয়া। সেই দৌড়ে বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে দিঘার জগন্নাথধাম। আগামী মাত্র ছ’মাসেই সেখানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়াবে বলে আশাবাদী রাজ্য ও মন্দির কর্তৃপক্ষ।

ডিসেম্বরের শেষেই দিঘার জগন্নাথধামে দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটি পেরিয়েছে। এর মধ্যে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিঘায় এসেছেন প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি পর্যটক। জগন্নাথধামের দায়িত্বে থাকা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যেই এই সংখ্যা লক্ষে পৌঁছবে।

এর মূল কারণ গৌড় পূর্ণিমা উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা নবদ্বীপ-ধাম পরিক্রমা, যা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই পরিক্রমায় লক্ষাধিক বিদেশি ভক্ত ও পর্যটকের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব ও শ্রীল প্রভুপাদের স্মৃতিবিজড়িত প্রায় ৬০টি পবিত্র স্থান পরিক্রমার পর পর্যটকদের বড় অংশই দিঘায় যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে তাঁরা দর্শন করবেন সৈকতনগরের জগন্নাথদেবকে। সব মিলিয়ে মে-জুন মাসের মধ্যেই প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি পর্যটক দিঘায় পৌঁছবেন বলে অনুমান।

রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম–২০২৫ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ৩১ লক্ষ ২০ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, দ্বিতীয় স্থানে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই এবার দেশের শীর্ষে ওঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য।

এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে পর্যটন দপ্তরের জন্য ৫২৫.৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সামনে রাজ্যের বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চারশোরও বেশি ধর্মীয় স্থানকে একশোর বেশি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটে ভাগ করা হয়েছে। সেই সার্কিটের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে। পুণ্যার্থীদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো—সবই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ এবং ডোমেস্টিক টুরিস্ট অ্যারাইভাল ছিল ৮.৮ কোটি। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লক্ষ ২০ হাজারে, আর দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা হয়েছে ২৩.৯৪ কোটি। অর্থাৎ, পর্যটকের সংখ্যা কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে দুর্গাপুজোর বিশ্বায়ন, রেড রোডে আন্তর্জাতিক মানের দুর্গাপুজো কার্নিভাল—সব মিলিয়ে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলা এখন বড় আকর্ষণ। পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতায় নথিভুক্ত হোম স্টের সংখ্যা ৫৪০৯। এছাড়া বন দপ্তর ৪০১টি এবং আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ ২৩৯১টি হোম স্টেকে মান্যতা দিয়েছে।

উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতে ২৪০ জন টুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগ করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে ২৪৫০ জন টুরিস্ট গাইড কাজ করছেন রাজ্যে। মাইস (মিটিংস, ইনসেনটিভ, কনফারেন্স অ্যান্ড এগজিবিশন) পর্যটনেও শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ।

পাশাপাশি রাজ্য পর্যটন নিগম পাহাড়, সমুদ্র ও জঙ্গলমহল মিলিয়ে ২০০-র বেশি ট্যুর প্যাকেজ চালু করেছে। ঐতিহাসিক মন্দিরনগর বিষ্ণুপুরে নতুন সরকারি প্যাকেজ ট্যুর চালুর প্রস্তুতি চলছে। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের জন্যও নতুনভাবে ডিজাইন করা ট্যুর প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, পর্যটনে দেশের এক নম্বর হওয়ার দৌড়ে বাংলা এখন অনেকটাই এগিয়ে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!