Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৩, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের চামড়া শিল্পে সঙ্কট, জুতোর দাম বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের চামড়া শিল্পে সঙ্কট, জুতোর দাম বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের চামড়া শিল্পে, বিশেষ করে কলকাতা ও বানতলা লেদার কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পরিবহণে বিলম্ব এবং রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা—এই তিনের চাপে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা শিল্পমহলের।

সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা এসেছে পেট্রোলিয়াম নির্ভর কেমিক্যালের দামে। চামড়া প্রক্রিয়াকরণ ও জুতো তৈরিতে ব্যবহৃত এই কাঁচামালের দাম ২০% থেকে ৮০% পর্যন্ত বেড়েছে। কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টস-এর মতে, এর ফলে উৎপাদন খরচ অন্তত ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া অনেক কারখানার পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ইউনিটগুলির ক্ষেত্রে চাপ আরও বেশি।

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদকরা বাধ্য হচ্ছেন পণ্যের দাম বাড়াতে। শিল্প সূত্রে জানা যাচ্ছে, খুচরো বাজারে জুতোর দাম ৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। শুধু জুতো নয়, বেল্ট, ব্যাগসহ সব ধরনের চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা যাবে। অনেক প্রস্তুতকারক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, দাম না বাড়ালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। রপ্তানির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় বিপুল পরিমাণ চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় সেই রপ্তানি ৪০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ডেলিভারিতে দেরির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পরিবহণ ব্যবস্থার অস্থিরতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে ইউরোপে পণ্য পৌঁছাতে যেখানে প্রায় ২৩ দিন লাগত, এখন তা বেড়ে ৩২–৩৩ দিনে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ বিকল্প রুট নিতে হচ্ছে। এর ফলে শুধু সময় নয়, অনিশ্চয়তাও বাড়ছে, যা সময়মতো ডেলিভারি ও নতুন অর্ডার পাওয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে পরিবহণ খরচও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এয়ার ফ্রেইট খরচ প্রায় তিনগুণ হয়ে গেছে, আর সমুদ্রপথে পরিবহণ খরচ বেড়েছে ১০% থেকে ২০%। অনেক ক্ষেত্রে এয়ার কার্গোতেও জায়গার অভাব দেখা যাচ্ছে, ফলে দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

পশ্চিমবঙ্গের চামড়া শিল্প এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজ্যে প্রায় ৫৫০টি ট্যানারি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১২০টি ইউনিট কলকাতার বানতলা লেদার কমপ্লেক্সে অবস্থিত। এছাড়া প্রায় ৩,০০০ চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী ইউনিট এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই বিশাল শিল্পব্যবস্থা এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। শিল্পমহলের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উৎপাদন হ্রাস, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং খরচ বৃদ্ধি—এই তিনের সম্মিলিত চাপে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে এই শিল্প বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত, সেখানে এই সঙ্কটের প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!