- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২০, ২০২৫
ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের চাপে বিএলওদের দুর্দশা ! ‘এসআইআর’ থামানোর দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি ক্ষুব্ধ মমতার
রাজ্যে জোরদারভাবে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর কাজ। আর এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তর ও সাধারণ মানুষ সবখানে অস্বস্তি আর আতঙ্কের পরিবেশ। একেরপর এক ভোটার আর বিলএলও-র মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি এতোই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, মঙ্গলবার সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ না করলে পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক, সবার উপরই এ প্রক্রিয়া ‘অপরিকল্পিতভাবে চাপানো’ হয়েছে। ফলে রাজ্য জুড়ে ভীতি, বিভ্রান্তি এবং প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে বিশেষ করে বুথ লেভেল অফিসারদের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফর্ম সম্পর্কিত সমস্ত কাজ শেষ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাড়াহুড়োর মধ্যে ভুল তথ্য আপলোডের আশঙ্কা রয়েছে, যার দায়সারা পড়তে হবে বিএলওদের। ফলে প্রকৃত ভোটাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। মমতা আরো লিখেছেন, বিএলওদের উপর অমানুষিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। কাজ শেষ করতে গিয়ে যে কোনো ভুলের দায় তাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। শো-কজ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, এমনকি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, রাজ্যের সিইও দপ্তর মাঠের বাস্তবতা বুঝতে চাইছে না। সাহায্য করার পরিবর্তে তারা ‘ভয় দেখাচ্ছে’, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
চিঠিতে সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, যে কাজ করতে সাধারণত ৩ বছর সময় লাগে, এবার তা মাত্র ৩ মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হচ্ছে। এই অযৌক্তিক চাপের কারণে ইতিমধ্যেই একাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মমতা আরো লিখেছেন, ‘আরো একজন বিএলওকে হারিয়েছি আমরা। অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করতেন ওই মহিলা। এসআইআরের এত চাপ নিতে পারেননি।’ তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত চাপ ও আতঙ্কের কারণে মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নেবে। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, অন্তত বর্তমানে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা হোক। মাঠের বাস্তবতা বুঝে এবং যথাযথ সময় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চালানো ছাড়া এ ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব নয়।
❤ Support Us






