- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ২৯, ২০২৫
ঔপনিবেশিক ছাপ মুছে ফেলতে তৎপরতা ! বদলে যাচ্ছে রাজভবনের নাম
বিজেপি জমানায় দেশে নাম পরিবর্তনের হিরিক নতুন কিছু নয়। আর তা ঘিরে বিতর্কও দীর্ঘদিনের। দেশের একাধিক রাস্তা, ভবন, সৌধ, শহর, জেলার নাম ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত হয়েছে। এবার সে তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে বঙ্গের রাজভবনের নাম। ঔপনিবেশিকতার ছাপ মুছে ফেলতে দেশের সব রাজভবন ও রাজনিবাসের নাম বদলে ‘লোক ভবন’ এবং ‘লোক নিবাস’ করা হয়েছে। বহুদিন ধরেই এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে কেন্দ্রের অনুমোদন মিলতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল রাজভবন কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৫ নভেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নয়া নামকরণ কার্যকর হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, ‘রাজভবন নামটি মূলত ঔপনিবেশিক যুগের প্রতিফলন বহন করছিল। আমরা চাইছিলাম এমন একটি নাম, যা জনগণের আরো কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তাই কলকাতা, দার্জিলিং এবং ব্যারাকপুরের রাজভবনের নাম বদলে ‘লোক ভবন’ করা হলো। একইভাবে রাজনিবাসগুলোর নামও ‘লোক নিবাস’ রাখা হয়েছে।’ রাজভবনের এক্স হ্যান্ডেলেও ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জন রাজভবন’ প্রকল্প কেবল একটি নাম নয়। এটি একটি কার্যক্রম, যা গত তিন বছরে জেলা পর্যায়ে জনসেবায় সরাসরি কাজ করেছে— প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা সামাজিক উদ্বেগ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। নতুন নামের সঙ্গে এই কার্যক্রমকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’
সম্প্রতি, রাজ্যপাল আনন্দ বোস নিজে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছেন। কলকাতার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের মাঠ, যেখানে সাধারণ মানুষ থাকেন, তিনি সেখানে বসে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং নিজের কাজের সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘লোক ভবন নামকরণ শুধু আখরিক পরিবর্তন নয়; এটি জনগণের কাছে রাজভবনকে আরও উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ। আমাদের লক্ষ্য রাজভবনের ভাবমূর্তি এমনভাবে গড়ে তোলা, যা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে খাপ খায়।’ এর আগে, রাজ্যপাল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গেও বলেছিলেন, ‘দায়িত্বশীল রাজ্যপাল হিসেবে বলতে চাই, ইতিহাস থেকে নেতাজিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ইতিমধ্যেই বলেছেন, ইতিহাসে নেতাজিকে যথাযথ স্থান দিতে হবে। এটি প্রতিটি ভারতীয়ের দায়িত্ব।’ অনেকেই এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে জনগণিকীকরণের এক প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ঔপনিবেশিকতার বেড়াজাল ভেঙে নতুন নাম এবং নতুন ভাবমূর্তির মাধ্যমে রাজভবন এখন শুধুই সরকারি ভবন নয়, জনমানুষের স্পর্শযোগ্য, নাগরিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস একাংশের। তবে রাজ্যসরকারের সঙ্গে নানান সময়ে তীক্ততা থাকা রাজ্যপালের উদ্যোগ শাসক দল কতখানি গ্রহণ করবে তা এখনো প্রশ্নচিহ্নের মুখে।
❤ Support Us






