Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • মার্চ ২৭, ২০২৩

টানা ২ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিখাত জারিন, প্রথম সোনা লভলিনা বরগোহাইনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টানা ২ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিখাত জারিন, প্রথম সোনা লভলিনা বরগোহাইনের

নীতু ঘাঙ্ঘাস, সুইটি বোরার পর নিখাত জারিন ও লভলিনা বরগোহাইন। মহিলাদের বিশ্ব বক্সিং চ্য়াম্পিয়নশিপে জয় জয়কার ভারতীয় বক্সারদের। সোনা জিতলেন লাভলিনা বরগোঁহাই। বিশ্ব বক্সিংয়ে এটি তাঁর প্রথম সোনা জয়। লভলিনা ৫–২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাটলিন পার্কারকে হারিয়ে সোনা জেতেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ৭৫ কেজি বিভাগে লাভলিনার সোনা আসে স্প্লিট ডিসিশনে। ২০০৬ সালে মহিলাদের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের আসর থেকে চার–চারটি সোনা জিতেছিল ভারত। ১৭ বছর আগের সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন লভলিনা বরগোহাইন, নিখাত জারিনরা।
এদিন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাটলিন পার্কারের বিরুদ্ধে সতর্কভাবে শুরু করেছিলেন লভলিনা। উচ্চতাকে এদিন শুরু থেকেই যথাযথভাবে কাজে লাগালেন লাভলিনা। যার ফলে প্রথম রাউন্ড তিনি জিতে নেন ৩-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয় রাউন্ডে পার্কার আগ্রাসী হলেও তেমন পরিস্কার পাঞ্চ করতে পারেননি। যদিও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার বক্সার।
তৃতীয় রাউন্ডে মরিয়া হয়ে ওঠেন লভলিনা। স্প্লিট ডিসিশনেই জিতে যান দ্বিতীয় রাউন্ডে। শেষ রাউন্ডে দুই বক্সারই অল আউট ঝাঁপান। তুল্যমূল্য লড়াই চলতে থাকে। লাভলিনার দারুণ কিছু পাঞ্চের সাক্ষী থাকেন দর্শকরা। এই বাউটটিতে বিজয়ী নির্ধারণে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ হাসি হাসেন লাভলিনাই। স্প্লিট ডিসিশনে কেরিয়ারের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব দখল করেন ভারতের এই বক্সার।
লভলিনার আগে রবিবার ৫০ কেজি লাইট ফ্লাইওয়েট বিভাগে সোনা জেতেন নিখাত জারিন। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ভিয়েতনামের নগুয়েন থি তাম। এদিন লড়াইয়ের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করেন নিখাত জারিন। প্রথম রাউন্ডে নগুয়েন থি তামকে একেবারে দাঁড়াতেই দেননি। একের পর এক পাঞ্চে বাজিমাত করে যান। প্রথম রাউন্ডে ৫–০ ব্যবধানে জয়লাভ করেন নিখাত।
দ্বিতীয় রাউন্ডে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসেন ভিয়েতনামের বক্সার। দুর্দান্ত লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত নগুয়েন থি তাম ৩–২ ব্যবধানে দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়লাব করেন। তৃতীয় রাউন্ডে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা ছাড়া রাস্তা নেই। এটা বুঝেই আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন নিখাত জারিন। আরও বেশি আক্রমণের পথ বেছে নেন। নগুয়েন থি তামও পান্টা আক্রমণ শানাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত দুজনকেই কাউন্টডাউনে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ভাবে নিখাত জারিনকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়  তিন–তিনটি ব্রোঞ্জ জিতলেও সোনা অধরাই ছিল লভলিনা বরগোহাইনের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে আগে তিনি দু–দুটি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকেও তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। গতবছর কমনওয়েলথ গেমসে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল এই ভারতীয় বক্সারকে। কমনওয়েলথ গেমসে ব্যর্থতা নিয়ে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল লভলিনাকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে জবাব দেওয়ার জন্যই নেমেছিলেন। প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে আগে কখনও ফাইনালে ওঠেননি। প্রথমবার ফাইনালে উঠে বাজিমাত লভলিনার। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বক্সারের বিরুদ্ধে জয় সহজে আসেনি এই ভারতীয় বক্সারের।
লভলিনা সোনা জেতার সঙ্গে সঙ্গে এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসর থেকে ৪টি সোনা জিতল ভারত। ২০০৬ সালেও দেশকে চার–চারটি সোনা এনে দিয়েছিলেন মেরি কম, সরিতা দেবী, আরএল জেনি এবং কেসি লেখা। এরপর একসঙ্গে চার–চারটি সোনা কখনও ঘরে তুলতে পারেননি ভারতীয় মহিলা বক্সাররা। ১৭ বছর আগের সেই নজির স্পর্শ করলেন নিখাত জারিন, লভলিনা বরগোহাইন, নীতু ঘাঙ্ঘাস, সুইটি বোরারা। ‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!