- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৩, ২০২৩
মজে যাওয়া যমুনার করাল গ্রাসে দিল্লি, বিপদসীমার ওপর বইছে নদী। পরিস্থিতি সামলাতে স্কুল বন্ধের নির্দেশ জারি
সাধারণত প্রায় শুকনোই থাকে নদীখাত, কিন্তু কয়েকদিনের অতিবর্ষণে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে যমুনা। সেই সঙ্গে হরিয়ানার হাথনিকুন্দ বাঁধ থেকে বার বার জল ছাড়ার কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে নদীর জলস্তর। যার জেরে বিপর্যস্ত রাজধানীর জনজীবন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে নদীতীরবর্তী জনপদে বসবাসকারীদের নিরাপদে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেইসঙ্গে স্কুলগুলোকেও আপাতুত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
যমুনার রূপ যে কতটা আগ্রাসী হয়ে উঠেছে তা নদী বিশেষজ্ঞদের পরিসংখ্যানে ফুটে উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় ২০৮.৪৬ মিটার উচ্চতা স্পর্শ করেছে জলস্তর। যা নির্ধারিত বিপদসীমার থেকে ৩ মিটার বেশি। যার দরুণ স্বাভাবিক নাগরিক জীবন সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। জায়গায় জায়গায় জমে রয়েছে জল, কোথাও গাড়ি অর্ধেক ডুবে রয়েছে, তো কোথাও স্কুল-কলেজ ও অন্যান্য বহুতলের জল ঢুকে পড়েছে। রিং রোড থেকে কাশ্মীর গেট অবধি এলাকার অনেকাংই এখন জলমগ্ন । এই দুর্বিপাকের কারণে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে দিল্লিতে। বোট ক্লাব, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি থেকে ময়ূর বিহার, বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দিল্লি প্রশাসন বন্যা উপদ্রুত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে, যমুনার তীরবর্তী অঞ্চলের ৭৫০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। বন্যা বিধ্বস্ত জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। যাতে সেখানে কেউ যেতে না পারেন সেকারণে এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। শহরের একাধিক জায়গায় গাড়ি চলাচল আপাততবন্ধ । তার পরিবর্তে অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লরি ঢোকার ক্ষেত্রেও একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দিল্লিতে যাবে না এমন ট্রাককে দিল্লির ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মুবারক চক থেকে ওয়াজরাবাদ ব্রিজে কোনও গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ আমলাদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই বন্যার দৃশ্য উপভোগের জন্য রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। নাগরিকদের কাছে তাঁর অনুরোধ এ কাজ থেকে যেন তারা বিরত হন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাড়ির বাইরে পা না রাখেন। নাহলে বড়ো বিপদ ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে আরো বলা হয়েছে পুরনো দিল্লির নিগম বন্ধ শশ্মান ঘাটকে এখন ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বন্যার কবলে পড়ে তার এখন দফারফা অবস্থা।
রাজনীতির দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে বন্যা নিয়েও। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, অত্যন্তধীর গতিতে চলছে উদ্ধারকার্য। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন করেছেন। যাতে হরিয়ানার হাথনিকুণ্ড থেকে আর যেন জল ছাড়া না হয়। কারণ বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। তাদের অনুরোধ অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে সমগ্র রাজধানী আগামী দিনে জলের তলায় চলে যাবে। তবে, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে , অতিবৃষ্টিতে সেখানকার জলাধারগুলোতে প্রচুর জল জমা হয়েছে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা না পর্যন্ত জল ছাড়া অব্যাহত রাখা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
❤ Support Us






