Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ৮, ২০২৫

মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে অস্ত্রসমর্পণ ১০ মাওবাদীর, তালিকায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কমান্ডার কবীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে অস্ত্রসমর্পণ ১০ মাওবাদীর, তালিকায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কমান্ডার কবীর

মধ্যপ্রদেশে মাওবাদী-দমন অভিযানে নতুন সাফল্য। মোট ২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার মাথার দাম ঘোষিত ১০ জন মাওবাদী সদস্য রবিবার বালাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সামনে আত্মসমর্পণ করলেন। দলের মধ্যে রয়েছেন ৪ মহিলা। রয়েছেন এমএমসি জোনের অন্যতম ভয়ঙ্কর মুখ—‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ কমান্ডার কবীর ওরফে সোম ওরফে সুরেন্দ্র, যার আত্মসমর্পণকে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার ‘বৃহত্তম সাফল্য’ বলেই তুলে ধরছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সোজাসাপটা ঘোষণা— ‘২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে মধ্যপ্রদেশে মাওবাদীদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। আত্মসমর্পণ না করলে নিশ্চিহ্ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য হলো দেশের মাটি থেকে নকশালবাদ নির্মূল করা।’

এদিন, মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটের পুলিশ লাইনের মাঠে যে দৃশ্য দেখা গেল, তা যেন দীর্ঘ দিনের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের এক নাটকীয় সমাপ্তি। সারি করে দাঁড়িয়ে আছেন ১০ জন মাওবাদী। ছায়াচ্ছন্ন মুখ, ক্লান্ত চোখ, তবু সেই ঠান্ডা দৃষ্টি আর আগের মতো কঠিন নয়। সামনে সাজানো একে-৪৭, ইনসাস রাইফেল, ব্যাগভর্তি বুলেট। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সামনে একে একে অস্ত্র রেখে মাথা নত করেন তাঁরা। এর মধ্যেই বারবার চোখ একজনের ওপর, মধ্যপ্রদেশের কানহা–ভোরাদেও ডিভিশনের কুখ্যাত কমান্ডার কবীরের ওপর। সোম, সুরেন্দ্র, বহু নামে পরিচিত এই মাওবাদীর মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। তাঁর নাম শুনলেই ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশ সীমান্তের অরণ্যে দশকের পর দশক কেঁপে উঠত নিরাপত্তা বাহিনী। সেই কবীরও রবিবার মাথা নিচু করে অস্ত্র জমা দিলেন সরকারের হাতে। পুলিশ–প্রশাসনের মতে মধ্যপ্রদেশের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

কবীরের পাশেই সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন আর এক কুখ্যাত নেতা রাকেশ, ওরফে মণীশ। তাঁরও মাথার দাম ছিল কবীরের মতোই ৬২ লক্ষ। এমএমসি জোনে অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, এবং অন্তর্ঘাতমূলক অভিযানের অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর পাশে আরও ৮ জন—লালসিং, শিল্পা, নবীন, জয়শীলা, বিক্রম, জরিনা এবং সমর। সকলেই দীর্ঘ দিন ধরে মাওবাদী গেরিলা ইউনিটে কাজ করেছেন, কেউ দলে সাংস্কৃতিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন, কেউ বা বহু হামলার সক্রিয় মাথা। আত্মসমর্পণকারী ৪ মহিলার মুখেই স্পষ্ট ছিল স্বস্তির ছাপ; অরণ্যের আড়ালে পালিয়ে বেড়ানোর জীবন থেকে বেরিয়ে মানবিক অস্তিত্বে ফিরবেন, এমন আশ্বাস তাঁরা পেলেন এই প্রথমবার।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার কথা উঠে আসে বারবার। নকশাল সমস্যাকে নির্মূল করার যে লক্ষ্য কেন্দ্র ঠিক করেছে, তার সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে এবার দৃশ্যত নিজেদের দাবি করছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিল অসংখ্য পুলিশ, গ্রামবাসী এবং প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁদেরই মধ্যে কেউ কেউ ফিসফিস করে বলছিলেন, সুনীতার আত্মসমর্পণের পরে এত দ্রুত আর এক দফা এত বড়ো মাপের তালিকাভুক্ত মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ, এ যেন স্বপ্ন। মাত্র এক মাস আগে নতুন বিশেষ পুনর্বাসন নীতির আওতায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন সুনীতা। সে ঘটনার মতোই এবারও আত্মসমর্পণ নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের। আয়োজিত অনুষ্ঠানটির পরে রাজ্যের মাওবাদ-বিরোধী শাখার আধিকারিকরা জানালেন, এই আত্মসমর্পণের ফলে কানহা ন্যাশনাল পার্ক এবং তার চারপাশের উত্তর এমএমসি জোন কার্যত মাওবাদীমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। অরণ্য-ঢাকা এ অঞ্চল বহু বছর ধরে মাও-আন্দোলনের ঘাঁটি ছিল। গোপন শিবির থেকে শুরু করে গ্রামবাসীদের ওপর অত্যাচার, সবকিছুরই শেষ চিহ্নটুকু যেন রবিবার মিলিয়ে গেল। তবে ওয়াকিবহালরা বলছেন, সমস্যা এখানেই শেষ নয়। রাজ্যের দক্ষিণে, বিশেষত গন্ডিয়া–রাজনান্দগাঁও–বালাঘাট জিআরপি ডিভিশনে এখনো সক্রিয় রয়েছে রামদেবের নেতৃত্বাধীন প্রায় ১৮ জন সশস্ত্র মাওবাদী। ঠিক আগের দিন মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড় সীমান্তে এই দলটির সঙ্গে পুলিশের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হয়েছে। সেই অশান্ত চিহ্ন আরো একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, কানহায় স্বস্তি মিললেও দক্ষিণাঞ্চল এখনো সমস্যার কেন্দ্রস্থল।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!