Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ৫, ২০২৫

পূর্ব বর্ধমানে চাকরি হারালেন ১০২৪ জন।হৃদরোগে প্রাণ গেল শিক্ষকের মায়ের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পূর্ব বর্ধমানে চাকরি হারালেন ১০২৪ জন।হৃদরোগে প্রাণ গেল শিক্ষকের মায়ের

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছে ছেলে-বউমা। সেই শোক সহ্য করতে পারলেন না সত্তর ছুঁইছুঁই মঞ্জুলা যশ। হৃদরোগে মৃত্যু হল তাঁর। পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার সোনাকুড় গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুলা। তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূ বীরভূমের স্কুলে চাকরি করেন। তাদের চাকরির অনিশ্চয়তার খবর শোনার পর থেকেই নাওয়া-খাওয়া ভুলেছিলেন মঞ্জুলা। অসুস্থতা বাড়ায় স্থানীয় বামচান্দাইপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মঞ্জুলাকে। সেখানেই গতরাতে মৃত্যু হয় তাঁর। ছেলে-বউমা চাকরি পাওয়ার খুব খুশি হয়েছিলেন মঞ্জুলা। সংসারেও সুখ ফিরেছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই সুখে ইতি পড়ল।

শুধু মঞ্জুলাদেবীর ছেলে-বউমাই নয়, সুপ্রিম রায়ে চাকরি খোয়ালেন পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১০২৪ জন। পূর্ব বর্ধমানে চাকরি গেল ৭৫০ জন শিক্ষক ও ২৭৪ জন শিক্ষাকর্মীর। এর ফলে বহু স্কুলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের। কালনার হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ১৭০০ জন। ২০টি শ্রেণীকক্ষে ক্লাস হয়। এই স্কুলে বাতিলের তালিকায় ৬ জন শিক্ষিকা। কালনা মহারাজা উচ্চবিদ্যালয়েরও ৬ শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম রয়েছে বাতিলের তালিকায়। এই স্কুলে ১৮০০ পড়ুয়া ও ৩০টি শ্রেণীকক্ষে ক্লাস হয়। স্কুলের পঠন-পাঠন চালানোটাই সমস্যা হয়ে যাবে বলে মনে করেন হিন্দু বালিকার প্রধানশিক্ষিকা ফাল্গুনী মল্লিক ও মহারাজা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক রঘুনাথ মণ্ডল। কাটোয়ার পানুহাট রাজমহিষী হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক কমলাকান্ত চক্রবর্তী বললেন, ‘আমার স্কুলেও ৪ শিক্ষক ও ১ শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছে বলে শুনেছি। এতে বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনায় বেশি ক্ষতি হবে।’ কাটোয়ার পানুহাটের বাসিন্দা, কাইজুর রহমানের কথায়, ‘রায় শোনার পর পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে।’ কালনার চাকরি খোয়ানো শিক্ষক রূপ ভট্টাচার্য বললেন, ‘সিবিআই তদন্তে আশার আলো নেই বললেই চলে। এমন দিনের সাক্ষী হতে হবে স্বপ্নেও ভাবিনি।’ ‘ উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালে এস এস সি পরীক্ষার পর ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কয়েক ধাপে পূর্ব বর্ধমানে ১৪৫০ জনকে নিয়োগ করা হয়। তারমধ্যে ৪২৫ জন বদলি নিয়ে ভিন জেলায় চলে গিয়েছেন।

পূর্বস্থলীর লক্ষ্মীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক চিরঞ্জিৎ গুপ্ত বলছিলেন, ‘শৈশবের সময় থেকেই আমি সবসময় সৎ পথে চলার কথা ভেবেছি। অথচ অসৎ পথে চলার জন্যই আমাদের শাস্তি হল।’ সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বহু অভিভাবক। আবার বহু স্কুলে শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলে দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে চরম সমস্যা হবে বলে মনে করছেন প্রধানশিক্ষকরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!