- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৩১, ২০২৬
দিল্লিগামী চলন্ত বাসে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন, গ্রেফতার চালক-কন্ডাক্টর
উত্তরপ্রদেশের মইনপুরীর বাসিন্দা, একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী পারিবারিক কারণে গত ৪ আগস্ট বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়ে। নয়ডার সেক্টর ৬৩-তে বসবাসকারী তার তুতো দাদার কাছে যাচ্ছিল সে। রাতে বৃষ্টি ও অন্ধকারের জেরে গ্রেটার নয়ডার পরি চক এলাকায় ভুল করে বাস থেকে নেমে পড়ে নাবালিকা।
জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছিল ওই কিশোরী। সে সময় একটি স্লিপার বাস তার কাছে এসে দাঁড়ায়। অভিযোগ, নয়ডায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই কিশোরীকে বাসে তোলেন চালক ও কন্ডাক্টর। বাসে ওঠার পর থেকেই কন্ডাকটর অশালীন আচরণ শুরু করে। এরপর বাসচালক ও কন্ডাকটর মিলে তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালান। বাধা দিলে নাবালিকাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। পরি চক থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে পুরাতন দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে রিং রোডের ধারে তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
দিল্লি পুলিশ ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর দিল্লি) নীহারিকা ভট্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসচালক কুলদীপ ও কন্ডাকটর সন্দীপকে তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত স্লিপার বাসটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, অপহরণ ও মারধরের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বৈজ্ঞানিক বা শারীরিক প্রমাণ বাসের ভিতর থেকে পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসটির গতিপথের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের নাম কুলদীপ ও সন্দীপ। কিশোরীর অভিযোগ, বাসে ওঠার পর কিছু ক্ষণের মধ্যেই তার উপর যৌন নির্যাতন শুরু হয়। সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। চলন্ত বাসের ভিতরেই দফায় দফায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে পুলিশকে দেওয়া বয়ানে জানিয়েছে কিশোরী। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বাসটিতে সে সময় অন্য কোনো যাত্রী ছিল না। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বাসটিকে গ্রেটার নয়ডার সুরজপুর এলাকার একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে গিয়ে মেরামত করা হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর চালক ও কন্ডাক্টর খালি বাসটি দিল্লির তিমারপুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরী চক এলাকায় তাঁদের সঙ্গে কিশোরীর দেখা হয়।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, পরী চক থেকে কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পথ বাসটি অতিক্রম করে। কিশোরীর অভিযোগ, এই যাত্রাপথেই তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে গভীর রাতে কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাস থেকে নামার পর সরাসরি পুলিশের সাহায্য নেয় কিশোরী। কাশ্মীরি গেট বাসস্ট্যান্ডের একটি পুলিশ কিয়স্কে গিয়ে সে ঘটনার কথা জানায়। অভিযোগ পাওয়ার পরই দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রাতেই তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং লটে বাসটির সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই চালক কুলদীপ এবং কন্ডাক্টর সন্দীপকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনা সামনে আসতেই দিল্লিতে গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোনও যাত্রী না থাকা অবস্থায় একটি বাসে চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে একা মহিলা বা কিশোরী যাত্রী উঠলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসকর্মীদের পরিচয় যাচাই, সিসিটিভি নজরদারি, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট রুটে পর্যবেক্ষণের মতো বিষয়গুলিও নতুন করে সামনে এসেছে। ২০১২ সালের দিল্লির নির্ভয়া-কাণ্ডের স্মৃতিও ফিরিয়ে দিয়েছে এ ঘটনা। সে সময় চলন্ত বাসে এক তরুণীর উপর যৌন নির্যাতন ও ঘুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল দেশ। এর পর দিল্লির গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। ফের চলন্ত বাসে এক কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
❤ Support Us








