Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৩১, ২০২৬

উত্তরপ্রদেশে প্লাবনের আশঙ্কা, ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরপ্রদেশে প্লাবনের আশঙ্কা, ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক

উদ্বেগ বাড়ছে উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। নেপালে একটানা ভারী বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে নারায়ণী ও গণ্ডক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। নদীতে জলস্তর আরও বাড়লে নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল নারায়ণী ও গণ্ডক নদীর মাধ্যমে নিম্ন অববাহিকায় নেমে আসে। ফলে নেপালে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রভাব পড়ে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও। বর্তমানে দুই নদীতেই দ্রুত জল বাড়ছে। অতিরিক্ত জলের চাপ সামলাতে বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়া হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধ থেকে ৯৯,৮০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। রবিবার সকাল ১০টায় সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,২৫,০০০ কিউসেকে। এরপর দুপুর ১টায় আরও জল ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন জল ছাড়ার পরিমাণ ছিল ১,৪৭,৫০০ কিউসেক।

অতিরিক্ত জলরাশির কারণে মহারাজগঞ্জ জেলার নিচলৌল এলাকায় নারায়ণী-গণ্ডক এখন ভয়াল রূপ নিয়েছে। নদীর জলস্তর যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে কোনও সময় নদীবাঁধ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পাথালহাওয়া ও তেলফল এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে নদী সংযোগকারী রোহুয়া নালার জল উপচে পড়া। এর ফলে আশপাশের নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলিকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করা যায়।

নিচলৌল সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। জলস্তর আরও বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। তবে আপাতত আতঙ্কের কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪.৩০ লক্ষ কিউসেক। বর্তমানে বাঁধে প্রায় ১.৫০ লক্ষ কিউসেক জল রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে বাঁধের ধারণক্ষমতার তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।

এদিকে, নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি এখনও তাজা। বুধবার সকালে হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার পর সুন্দরী নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে শহর থেকে গ্রাম—বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও অনেকে নিখোঁজ।

রবিবারের হিসাব অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৬৮। নিখোঁজ রয়েছেন ৩,০৪৮ জন। প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং একাধিক বাধা সত্ত্বেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে নেপালে নতুন করে একটানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু নেপাল নয়, সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাগুলির প্রশাসনও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!