- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৩১, ২০২৬
সপ্তাহে দু-দিন ‘জনতার দরবার’, সরকারি আধিকারিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, নতুন নির্দেশিকা নবান্নের
ক্ষমতায় আসার পরই মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চালু করেছিলেন ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত ‘জনতার দরবার’-এ বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। পাশাপাশি সরকারের কাছে অনলাইনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এবার সে উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে সপ্তাহে দু-দিন বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফিল্ড লেভেল’-এর সরকারি আধিকারিকদের ‘জনতার দরবার’-এ বসতে হবে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দফতরেই ‘জনতার দরবার’ চলবে। যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘জনতার দরবার’-এর নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি আধিকারিকরা অন্য কোনও বৈঠক করতে পারবেন না। কোনো পরিদর্শনে যাওয়া বা অন্য কোনো কর্মসূচিও রাখা যাবে না। ওই সময় তাঁদের নিজ নিজ দফতরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণ মানুষকে এই দরবারে অভিযোগ জানাতে আগাম কোনো ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ নিতে হবে না।
‘জনতার দরবার’-এ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ, সমস্যা ও তা সমাধানের জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য রাজ্য সরকারের ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এর ফলে বিভাগীয় কমিশনার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অভিযোগের নিষ্পত্তির অগ্রগতি দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পর্যালোচনাও করতে পারবেন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। রাজ্য সরকারের যুক্তি, বহু নাগরিক, বিশেষ করে প্রবীণ মানুষ, এখনো ডিজিটাল ব্যবস্থায় যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ নন। ফলে অনলাইনে তাঁদের সমস্যা বা অভিযোগ জানানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সে কারণেই সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সরকারি আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানানোর এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
‘জনতার দরবার’-এ শুধু প্রশাসনের আধিকারিকরাই নন, পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকতে হবে। বিডিও, জেলাশাসক এবং ডিভিশনাল কমিশনারের পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, ডেপুটি কমিশনার, ডেপুটি সুপার-সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে নিয়মিত এই দরবারে উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অফিশিয়াল ই-মেল আইডি ও মোবাইল নম্বর সাধারণ মানুষের নজরে পড়ার মতো জায়গায় অফিসে প্রদর্শন করতে হবে। পুরসভা, খাদ্য, কৃষি, বন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ-সহ বিভিন্ন দফতরের ওয়েবসাইটেও আধিকারিকদের ওই ই-মেল ও মোবাইল নম্বর প্রকাশ করতে হবে।
‘জনতার দরবার’ ব্যবস্থাটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে চলছে, অভিযোগ কতটা দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি কী— তা প্রতি ১৫ দিন অন্তর জেলা প্রশাসনের তরফে পর্যালোচনা করা হবে। এভাবেই অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে নবান্ন।
❤ Support Us







