- দে । শ
- মার্চ ১২, ২০২৬
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ উদ্যোগ, নোটিসে সই ১৯৩ বিরোধী সাংসদের, দুই কক্ষেই পূরণ মাপকাঠি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর অপসারণের দাবিতে সংসদে নোটিস আনার পথে আরও একধাপ এগোল বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, সেই নোটিসে ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন মোট ১৯৩ জন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য রয়েছেন। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের প্রস্তাব আনতে সংসদের দুই কক্ষেই যে ন্যূনতম সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, বিরোধীরা তা ইতিমধ্যেই জোগাড় করে ফেলেছেন বলেই জল্পনা।
সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ দাবি করে নোটিস আনতে হলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজ্যসভায় সে নোটিসে অন্তত ৫০ জন সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়। বিরোধী শিবিরের দাবি, দুই কক্ষেই প্রয়োজনীয় সংখ্যার সীমা পেরিয়ে গিয়েছে তাঁদের সমর্থন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপদলনেত্রী শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে আনা ওই নোটিসে লোকসভায় ইতিমধ্যেই ১৩০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। তাঁর কথায়, বিরোধী শিবিরের বহু সাংসদ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এ উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।
সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই সংসদের কোনো একটি কক্ষে এই নোটিস জমা দেওয়া হতে পারে। তবে প্রথমে লোকসভা না রাজ্যসভা— কোন কক্ষে তা পেশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে সংসদে নোটিস জমা পড়তে চলেছে, যা নিঃসন্দেহে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর প্রায় সব শরিক দলের সাংসদই সেখানে স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি সূত্রের। পাশাপাশি, বর্তমানে জোটের আনুষ্ঠানিক অংশ না থাকলেও আম আদমি পার্টির সাংসদেরাও সই করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, নোটিসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে দপ্তরে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতার অভাব এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অনিয়মের মতো বিষয়। পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাধা সৃষ্টি করা এবং বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো অভিযোগও। বিরোধী দলগুলির দাবি, একাধিক ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাসক দল বিজেপি-কে পরোক্ষে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে ‘এসআইআর’ নিয়ে তাঁদের আপত্তি ক্রমশ জোরালো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার আড়ালে বিরোধী সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অনেকটাই সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতির অপসারণের প্রক্রিয়ার অনুরূপ। অর্থাৎ প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতেই কেবল তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে। সংসদের যে কোনো কক্ষে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে। তবে তা গৃহীত হতে হলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কক্ষের মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন থাকতে হবে। অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ বিধান রয়েছে— প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ছাড়া তাঁদের অপসারণ করা যায় না।
এ ছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী, যদি সংসদের দুই কক্ষেই একই দিনে অপসারণ প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়ে, তা হলে উভয় কক্ষেই সে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা যায় না। দুই কক্ষেই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরে লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান যৌথ ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দাখিল করবে। তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ।
❤ Support Us





