- বি। দে । শ
- মার্চ ৭, ২০২৬
‘কুইট জিপিটি’, কেন হঠাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে উঠছে বয়কটের ডাক ?
প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক অদ্ভুত উলটপুরাণ দেখা যাচ্ছে। যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত, সেই চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বয়কটের ডাক। এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে “কুইট জিপিটি”। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় প্রায় দশ লক্ষের বেশি ব্যবহারকারী তাদের চ্যাটজিপিটির সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে। আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন হলিউডের জনপ্রিয় তারকা মার্ক রুফালো এবং পপ তারকা কাটে পেরির মতো পরিচিত মুখও। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বয়কট আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা সংস্থা ওপেন এআই-কে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, মানবকল্যাণের কথা বললেও বাস্তবে সংস্থাটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার দিকেই বেশি মন দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রোকমান নাকি মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্বাচনী তহবিলে প্রায় আড়াই কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। প্রযুক্তি মহলের একাংশের মতে, এ ধরনের অর্থায়ন এআই প্রযুক্তিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার আশঙ্কা বাড়ায়।
এছাড়াও আরেকটি অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। খবর অনুযায়ী, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা U.S. Immigration and Customs Enforcement বা আইসিই নাকি চ্যাটজিপিটি-সহ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সমালোচকদের দাবি, এই প্রযুক্তি অভিবাসীদের শনাক্ত করা, ধরপাকড় বা দেশছাড়া করার মতো প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে—যা মানবাধিকার প্রশ্ন তুলছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর United States Department of Defense বা পেন্টাগনের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে। জানা গেছে, পেন্টাগন বিভিন্ন এআই সংস্থার কাছে গণনজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য প্রযুক্তি চেয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সংস্থা Anthropic নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, ওপেনএআই সেই সুযোগ গ্রহণ করে সামরিক ব্যবহারের জন্য এআই প্রযুক্তি দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে—যা নিয়ে প্রযুক্তি মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে আর্থিক দিক থেকেও সংস্থাটি চাপে রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরে ওপেনএআই প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি এআই বাজারে তাদের শেয়ারও নাকি কমে ৬৯ শতাংশ থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে প্রতিযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির দিকে ব্যবহারকারীদের ঝোঁক বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির বিকল্প হিসেবে এআই চ্যাটবট Claude-সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। ইতিহাসবিদ Rutger Bregman এই পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন Montgomery Bus Boycott-এর সঙ্গে। ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সেই আন্দোলন বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তাঁর মতে, বর্তমান “কুইট জিপিটি” আন্দোলনও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও বয়কট আন্দোলন সফল হয় তখনই, যখন তার লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে এবং ব্যবহারকারীদের সামনে কার্যকর বিকল্প থাকে। সেই জায়গা থেকেই এখন অনেকেই বলছেন—চ্যাটজিপিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিবর্তন নয়, বরং সিলিকন ভ্যালির কাছে এক রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তাও হতে পারে।
❤ Support Us








