Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫

কলকাতায় ফের এটিএম জালিয়াতি, দুই গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা উধাও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় ফের এটিএম জালিয়াতি, দুই গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা উধাও

শুক্রবার রাতে যাদবপুরের কালিকাপুর এলাকায় রাষ্ট্রয়ত ব্যাঙ্কে এটিএম জালিয়াতির ঘটনা। দুই গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা উধাও। শহরে যে সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, তাতে কার্যত হতবাক গ্রাহকেরা। ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

যাদবপুরের কালিকাপুর অঞ্চলে ফের এটিএম জালিয়াতির শিকার দুই ব্যক্তি। খোয়া গেল লক্ষাধিক টাকা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক থানা এলাকায়, কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামের কাছে রাষ্ট্রয়ত ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টারে এমন আশঙ্কাজনক ঘটনা ঘটেছে। এর পিছনে বড়ো কোনো চক্র রয়েছে বলেছে মনে করছে সাইবার বিশেষজ্ঞদের। প্রতারিত ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ।

এটিএম মেশিন থেকে টাকা তোলা এখন খুব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বাঙ্কের পক্ষ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে চেক বা অন্য পদ্ধতির থেকে চটজলদি টাকা তোলবার ক্ষেত্রে গ্রাহককে এটিএম-এর ব্যবহার করতে বলা হয়। সুরক্ষার ব্যপারে নানান কথা শোনা যায়। কিন্তু খাস কলকাতায় এবার সেখানেই দুই গ্রাহক প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, অরূপজ্যোতি প্রধান নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার রাতে যাদবপুরে স্টেট ব্যাঙ্কের স্টেডিয়াম শাখা সংলগ্ন এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন, এটিএম মেশিনে কার্ড ঢোকানোর পর নির্দেশমতো পিন দেন, কিন্তু টাকা বের হবার পরিবর্তে তাঁর কার্ড মেশিনে আটকে যায়। হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন করলে, ওপাশ থেকে জানানো হয় – আবার পিন দিয়ে কার্ড বের করে নিতে। তাতেই বিপত্তি দফায় দফায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। তাঁর মোবাইলে পর পর ঢুকছে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটার মেসেজ। একইরকমভাবে বলাই সর্দার নামের ওপর এক ব্যক্তির ২৫ হাজার টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ। ব্যাঙ্কের সাহায্যকারী নাম্বারে ফোন করে কীভাবে প্রতারণার শিকার হলেন তাঁরা! প্রশ্ন উঠছে।

প্রতারিত অরূপজ্যোতি সংবাদমাধ্যমকে বলেন,’এসবিআইয়ের এই এটিএম কাউন্টার থেকে আগেও অনেকে প্রতারিত হয়েছেন বলে শুনেছিলাম। এবার আমার ক্ষেত্রে ঘটল। ভিতরে কাস্টমার হেল্প লাইনের যে নম্বর ছিল, সেখানে সাহায্য চাইতে গিয়ে উল্টে প্রতারিত হলাম!’

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে শুধু ওই ব্যক্তিরই নয়, ওই এটিএম থেকে আরও বেশ কয়েকজনের টাকা ঠিক একইভাবে জালিয়াতি হয়েছে। তাঁরাও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমনই কিছু অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই এটিএম-এর সিসিটিভি ফুটেজ। তদন্তে সাইবার বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নিতে পারে পুলিশ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাঙ্ক লাগোয়া নয় এমন এটিএম থেকে টাকা না তোলাই ভালো, গ্রাহকদের সতর্ক হবার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। অপ্রত্যাশিত কোনো লিংক না খোলার কথা বলা হয়েছে।

ভারতে প্রতিদিন সাইবার ক্রাইমের ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিরোধের জন্য একাধিক অদক্ষেপ, সতর্কতা জারি করেও তা আটকানো যাচ্ছে না। প্রতারণার নিত্যনতুন ফন্দিফিকির বের করছে জালিয়াতরা। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের হাতে ডিজিটাল ক্রাইমের কয়েকজন চাঁই ধরা পড়লেও, প্রতিদিন রাজ্যজুড়ে একাধিক প্রতারণার খবর আসে। খাস কলকাতায় যেভাবে সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে তা কার্যত হতবাক করে দেওয়ার মতো। কলকাতা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে শহরে সবমিলিয়ে সাইবার প্রতারণা হয়েছে ১০০ কোটি টাকার আর তার মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। মূলত টিকিট বুকিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, মাদক পাচারের ভয় দেখিয়ে, কেওয়াইসি আপডেট, শেয়ারে বিনিয়োগের টোপ, ওটিপি শেয়ার ও এটিএম জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা হয়ে চলেছে। যায় ফলে কলকাতার বিভিন্ন অংশের বাসিন্দারা এই বিপুল অঙ্কের টাকা হারিয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!