Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৮, ২০২৬

সরকারি গুদামে ২৬ হাজার কুইন্টাল শস্য খেয়েছে ইঁদুর, উইপোকা ! নজিরবিহীন ধান জালিয়াতিতে গ্রেফতার এক কর্মকর্তা, পলাতক পাঁচ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সরকারি গুদামে ২৬ হাজার কুইন্টাল শস্য খেয়েছে ইঁদুর, উইপোকা ! নজিরবিহীন ধান জালিয়াতিতে গ্রেফতার এক কর্মকর্তা, পলাতক পাঁচ

ছত্তিশগড়ের কবর্ধা জেলার চারভাটা ও বঘরার ধান সংগ্রহকেন্দ্রে অদ্ভূতপূর্ব জালিয়াতি। সরকারি গুদাম থেকে গায়েব ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান। এমন ‘অবাস্তব’ ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে গেছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে। ইতিমধ্যেই জালিয়াতির অভিযোগে এক কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরো পাঁচজন এই মুহূর্তে পলাতক। আধিকারিকদের তরফে দাবি করা হয়েছে, ধান চুরি হয়নি, বরং ইঁদুর ও উইপোকার উপদ্রবের কারণে নষ্ট হয়েছে।

কম্পিউটার নথি অনুযায়ী, দুই সংগ্রহ কেন্দ্রে ২০২৪-২০২৫ মরশুমে মোট ১,৬১,২৫০ কুইন্টাল ধান ক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ১,৪০,৬৬৩.১২ কুইন্টাল ধান মিল ও স্টোরেজ কেন্দ্রে পৌঁছেছে। এ হিসেবে প্রায় ৬.৩৮ কোটি টাকার ধান অনুপস্থিত। এর সঙ্গে ৪,৮৯৮টি গানি ব্যাগও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরো ১৭ লক্ষ টাকা বেড়েছে। এ ঘটনায় শিশুপাল যাদব নামে ৩৯ বছর বয়সী একজন কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি কনপারা উপকেন্দ্রের ইন-চার্জ ছিলেন। বাকি পাঁচজন— ভবনেশ্বর যাদব (অনুমোদিত কর্মকর্তা), জয়প্রকাশ সাহু (সোসাইটি ম্যানেজার), জিতেন্দ্র সাই (কম্পিউটার অপারেটর), অবিনাশ আস্থী (সহকারী ইন-চার্জ) এবং চন্দ্রকুমার যাদব (উপ-সহকারী ইন-চার্জ) এখনো পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের ধরার জন্য জোরদার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

ধানের ক্ষতির পিছনে ইঁদুর এবং উইপোকা, এমন কথা সামনে আসতে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। অভিষেক মিশ্র নামে জেলার এক কর্মকর্তার দাবি, সরকারি গুদামগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। পোকামাকড়, ইঁদুর এবং উইপোকার উৎপাতের কারণে ধানের বড়ো অংশ নষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে তদারকি শিথিলতার জন্য ধানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, রাজ্যের ৬৫টি ধান সংগ্রহকেন্দ্রের মধ্যে কবর্ধা জেলার কেন্দ্রগুলির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়।

এমন ‘অবিশ্বাস্য’ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপও বেড়েছে। কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন যদি সময়মতো সতর্ক হতো, তবে বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যেত। কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা ইঁদুর ধরার খাঁচা নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং সরকারের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। জেলার পুলিশ কর্মকর্তা শশী মোহন সিং জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। পলাতক ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে, মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাঁই-এর সরকারও এখন সরকারি গুদামগুলোর নিরাপত্তা ও তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!