- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৫
স্বাধীনতা উদ্যাপনে করাচির আকাশে এলোপাথাড়ি গুলি ! নিহত ৩, জখম অন্তত ৬৪
স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন! জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে শহর। আতশবাজি, গান, মিছিল, সবই চলছিল নিয়মমাফিক। কিন্তু হঠাৎই আনন্দ বদলে গেল বেপরোয়া উল্লাসে। একের পর এক রাইফেল উঁচিয়ে আকাশমুখী গুলি। মুহূর্তেই বদলে গেল ছবি। উৎসবে মিশে গেল রক্তের দাগ। পাকিস্তানের করাচি শহরে স্বাধীনতা দিবসের রাতে শূন্যে বেপরোয়া গুলি চালানোর ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বছর আটেকের এক শিশু কন্যা এবং এক প্রবীণ নাগরিকও। আহত অন্তত ৬৪।
করাচি পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের একাধিক এলাকায় উদ্যাপনের নামে গুলি চালানো হয়। আজিজাবাদে গুলির আঘাতে মৃত্যু হয় এক শিশুকন্যার। করাঙ্গিতে নিহত হন স্টিফেন নামে এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, শহরের আরো যে সব এলাকায় গুলি চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— লিয়াকতাবাদ, লিয়ারি, মাহমুদাবাদ, কিমারি, বালদিয়া, ওরাঙ্গি, শরিফাবাদ, পাপোশ নগর, লান্ডি, উত্তর নাজিমাবাদ, সুরজানি ও জামান টাউন। ঘটনায় মোট ৩ জন নিহত হয়েছেন, জখম বহু। হাসপাতাল সূত্রের খবর, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে সিভিল, জিন্নাহ, আব্বাসি শহীদ এবং শহরের বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালে। একাধিক আহত ব্যক্তির শরীরে গুলি বিদ্ধ রয়েছে। কারো মাথায়, কারো বুকে, কারো বা পিঠে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোর মালা, পতাকা, গান আর উৎসবের আবহে সেজে উঠেছিল করাচির অলিগলি। সাজসজ্জা দেখতে রাতেই পরিবারের সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিল আজিজাবাদের ৮ বছরের এক শিশুকন্যা। চোখে ছিল বিস্ময়, মুখে ছিল আবেগঘন উচ্ছ্বাস। কিন্তু হঠাৎ আকাশে গুলি ছুটল। তারই একটা ফুঁড়ে গেল তার কোমল শরীর। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। করাঙ্গিতে একইভাবে প্রাণ হারান স্টিফেন নামের এক যুবক। শুধু আজিজাবাদ বা করাঙ্গি নয়, করাচির লিয়াকতাবাদ, লিয়ারি, ওরাঙ্গি, কিমারি সহ একাধিক এলাকায় এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর খবর মিলেছে। গোটা শহর জুড়েই স্বাধীনতা উদ্যাপনের নামে গুলির আতঙ্ক। ঘটনার পর থেকেই তৎপর করাচি পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, চলছে অভিযুক্তদের খোঁজ। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ২০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। করাচি পুলিশের দাবি, ‘এ ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে, এ ধরনের ঘটনা করাচিতে নতুন কিছু নয়। গত বছরেও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে আকাশে গুলি চালানোর ঘটনায় আহত হয়েছিলেন অন্তত ৯৫ জন। শুধু ১৪ আগস্ট নয়, যে কোননো জাতীয় বা সামাজিক উৎসবে এমন ভয়ঙ্কর প্রথা যেন রীতিমতো সরল স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসেও নতুন বছর উদ্যাপনের রাতে গুলি লেগে প্রাণ গিয়েছিল অন্তত ৪২ জনের। এক মাসেই ২৩৩ জন আহত হন বিভিন্ন গুলির ঘটনায়। আহতদের মধ্যে ছিলেন নারী, শিশু, সাধারণ পথচলতি মানুষ। অনেকেই আহত হন ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায়, কেউ আবার শুন্যে ছোড়া গুলির শিকার হয়ে। তবে এবারের ঘটনা সব মাত্রা ছাড়িয়েছে, পাক-প্রশাসনের কড়া বার্তা, ‘উদ্যাপন মানে মৃত্যু নয়। কারো ঘরে আনন্দ হোক, কিন্তু অন্য কারো কপালে যেন শোক না আসে।’ আম-নাগরিকরাও চাইছেন, ভয়াবহ এ প্রথার অবসান হোক। এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমরা স্বাধীনতা চাই, কিন্তু এমন স্বাধীনতা নয়, যেখানে আমার শিশুকে রক্তাক্ত হয়ে ফিরতে হয়।’
❤ Support Us







