Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫

বাংলাদেশে এবার ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শারদ উৎসবের আয়োজন। নিরাপত্তায় বাড়তি গুরত্ব

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলাদেশে এবার ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শারদ উৎসবের আয়োজন। নিরাপত্তায় বাড়তি গুরত্ব

দুই বাংলার বাতাসে একটু একটু ছুঁয়ে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজার ঘ্রাণ। আকাশ নীল-সাদা পেঁজা পেঁজা তুলোয় জানান দিচ্ছে আর বেশি দেরী নেই। আর এ আবহেই জানা গেল চলতি বছরের বাংলাদেশ জুড়ে বসছে প্রায় ৩৩ হাজার ৫৭৬টি পূজামণ্ডপ। নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘিরে ইতিমধ্যেই নিবিড় পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন। তবে পূজার আনন্দে মাদক বা বিশৃঙ্খলার কোনো ঠাঁই নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি— দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কোনো রকম অসামাজিক আসর চলবে না। মেলা বসাতেও লাগবে পুজো কমিটির লিখিত অনুমতি।

সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেছেন, দেশজুড়ে পুজোর দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলবে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন থাকবেন আনসার সদস্য (আধা-সামরিক বাহিনী), পুলিশের বিশেষ বাহিনী, র‌্যাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিরা। শুধু আনসার সদস্য থাকবেন প্রায় ৩ লক্ষ। সীমান্তবর্তী এলাকায় পূজার নিরাপত্তা ভার থাকবে বিজিবির হাতে। উপদেষ্টার বলেছেন, ‘আমরা চাই, উৎসব হোক আনন্দের, শান্তির। কিন্তু সে আনন্দের আড়ালে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে নতুন একটি অ্যাপ চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কোনো মণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে অ্যাপে তথ্য জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, দাবি উপদেষ্টার। তিনি আরো জানান, অনেক সময় তালিকার বাইরে পূজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তালিকা অনুযায়ী মণ্ডপগুলোর তথ্য আগে থেকেই দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, এ বছর ঢাকায় বিসর্জন প্রক্রিয়াতেও থাকবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে প্রতিটি মণ্ডপকে। আর দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। পাশাপাশি, পুজোর ভোগ বা প্রসাদ আয়োজনের জন্য প্রতি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে ইউনূস সরকার। মোট চালের পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন। ৬৪ জেলার জেলার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ও সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলাভিত্তিক বরাদ্দ করবেন জেলা প্রশাসকরা বলে সূত্রের খবর।

বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপুজো মানেই এক দিকে বঙ্গ ঐতিহ্যের প্রাচীন ঘ্রাণ, সামাজিক সহাবস্থানের প্রতীক, অন্য দিকে উদ্বেগের ছায়া। গত ১০ বছর ধরে উৎসবের আবহেও কোথাও না কোথাও বেজে উঠেছে অসহিষ্ণুতার বিষসুর। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৫০টিরও বেশি পূজামণ্ডপ, মন্দির ও প্রতিমা আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। কখনো গুজব ছড়িয়ে, কখনো সামাজিক মাধ্যমের উস্কানি দিয়ে চলেছে হিংসা। ২০২১ সালের কুমিল্লা কাণ্ডে এক মণ্ডপে ধর্মীয় গ্রন্থ রাখার অভিযোগ ঘিরে ছড়িয়েছিল সহিংসতা; এরপর চাঁদপুর, নোয়াখালী, রংপুর, ফেনী সহ একাধিক জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ওই বছরই শুধু দুর্গাপুজোর সময় ৭০টির বেশি মণ্ডপে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও, পূজা এলেই সেদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে ফিরে আসে ভয়, আশঙ্কা। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, আর উৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই সরকারের তৎপর মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রশাসনের প্রস্তুতি তাই সর্বোচ্চ। পঞ্জিকা অনুসারে এ বছর দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে ২৭ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমী দিয়ে। এরপর ২৮ তারিখ মহাষষ্ঠী, ২৯-এ মহাসপ্তমী, ৩০-এ মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর মহাদশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালির প্রাণের শারদোৎসব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!