- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
৪০০ কেজি আরডিএক্স, ১৪ জন জঙ্গি! বোমা হামলার ১ কোটি মানুষকে মেরে ফেলার হুমকি, ‘হাই অ্যালার্ট’ মুম্বাইয়ে
গণেশ বিসর্জনের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বাণিজ্যনগরীতে ফের জঙ্গি হামলার আতঙ্ক। ৩৪টি গাড়িতে ৪০০ কেজি আরডিএক্স। প্রত্যেকটিতে রয়েছে ‘মানব বোমা’। ১৪ জন জঙ্গি পাকিস্তান থেকে মুম্বইয়ে ঢুকে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১ কোটি মানুষের প্রাণ নিতে পারে তারা। বৃহস্পতিবার রাতের এমন হুমকির পর শুক্রবার সকাল থেকেই শহর জুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতেই বার্তাটি আসে ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমের হোয়াটসঅ্যাপে। নিজেকে ‘লস্কর-ই-জিহাদি’ নামের এক জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করেছে প্রেরক। ওই বার্তায় আরও দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৪ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী ভারতে প্রবেশ করেছে। তাদের লক্ষ্য, বৃহস্পতিবার গণেশ বিসর্জনের দিন শহরের একাধিক অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো। এরপরই শহর জুড়ে তত্পরতা শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। সূত্রের খবর, হুমকির বার্তাটি খতিয়ে দেখছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। শহরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, পার্কিং এলাকা, বেসমেন্ট, যানবাহন এবং জনবহুল এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তরফে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য নাগরিকদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে। কোনোরকম গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। এক শীর্ষ পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যে কোনো হুমকির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। প্রত্যেকটা সম্ভাব্য জায়গায় নজরদারি চলছে। শহরের প্রতিটি কোণে তল্লাশি করা হচ্ছে। ট্রেন স্টেশন, শপিং মল, ধর্মীয় স্থান, বিসর্জন ঘাট— কোনো জায়গা বাদ রাখা হয়নি।’
প্রসঙ্গত, গণেশ উৎসব মুম্বাইয়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিসর্জনের দিন শহরের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ জমায়েত হন। ইতিমধ্যেই সে উপলক্ষে টানটান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নতুন এই হুমকির পর আরও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গত এক বছরে দেশজুড়ে বোমা হামলার ভুয়ো হুমকি বেড়েছে কয়েক গুণ। কিছু দিন আগেই দিল্লির প্রায় ৫০টিরও বেশি স্কুলে ইমেলে পাঠানো হয়েছিল বোমা হামলার হুমকি। ২০২৪ সালের মে মাসে একসঙ্গে প্রায় ৩০০টি স্কুলে একই ধরনের হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাইয়েও রাজধানীতে টানা তিন দিন ধরে আটটি বোমা হামলার হুমকি পাওয়া গিয়েছিল। ওই সব ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কিছু মেলেনি। তবে কোনোরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ মুম্বাই প্রশাসন। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের বার্তা ভুয়ো হলেও একে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। উৎসবের মরসুমে সামান্য গাফিলতিও বড়ো বিপদের কারণ হতে পারে বলেই বাড়ানো হয়েছে কড়াকড়ি। চলতি সপ্তাহেই মহারাষ্ট্রের থানে থেকে রূপেশ মাধুকর রানপিসে নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, রেলস্টেশন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। গত মাসেও দক্ষিণ মুম্বইয়ে ইসকন মন্দিরে হামলার হুমকি এসেছিল ইমেলে। সেখানেও তল্লাশির পর কিছু মেলেনি।
হামলার হুমকির প্রক্ষাপটেই বাণিজ্যনগরীর গণমনে ফিরে ফিরে আসছে ২৬/১১ স্মৃতি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর, পাকিস্তান থেকে আসা লস্কর-ই-তৈয়বার জঙ্গিরা মুম্বই শহরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল। ১৬০-র বেশি মানুষ নিহত হন। শহীদ হন বহু সেনা জওয়ান, পুলিশকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মী। তাজ, ওবেরয়, মিরান্ডা হাউস সহ একাধিক বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সদাব্যস্ত শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হানা ছিল সেটি। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই কোনো সম্ভাবনাকেই খাটো করে দেখছে না পুলিশ। উৎসবের আবহে শহরবাসীকে নিরাপদ রাখতেই এ যেন এক অদৃশ্য যুদ্ধ। মুম্বই পুলিশের কাছে এখন সবচেয়ে বডড়ো চ্যালেঞ্জ— আতঙ্কের আগুন ছাড়াই জনতার উৎসব নির্বিঘ্ন রাখা।
❤ Support Us








