Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও ইমপ্লান্টের দামে সরকারি লাগাম, সাশ্রয় বেড়েছে রোগীদের । দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও ইমপ্লান্টের দামে সরকারি লাগাম, সাশ্রয় বেড়েছে রোগীদের । দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

ওষুধের দাম বেঁধে দিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কমাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯৩৫টি মৌলিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ (Essential Drugs) এবং বিভিন্ন ধরনের সার্জিক্যাল ইমপ্লান্টের দামের ওপর ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে গত এক বছরে রোগীদের মোট সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা—এমনই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নাগরিকদের পকেটের ওপর ওষুধের দামের চাপ কমাতে এসেনশিয়াল মেডিসিনের গড় দাম প্রায় ১৭% কমানো হয়েছে। এর জেরে শুধুমাত্র ওষুধের ক্ষেত্রেই বছরে রোগীরা প্রায় ৩,৮০২ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মেডিক্যাল ইমপ্লান্টের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ধরা হলে মোট সাশ্রয়ের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এই বিষয়টি রাজ্যসভায় উত্থাপন করেন পাঞ্জাবের আপ সাংসদ সন্ত বলবীর সিং সিচেওয়াল। তিনি ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত দাম (ওভারপ্রাইসিং), উৎপাদক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত অসদাচরণ এবং বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে কেন্দ্রীয় রসায়ন ও সার মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল জানান, ২০১৩ সালের ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (ডিপিসিও) অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)–র নেতৃত্বে ৯৩৫টি ওষুধের সিলিং মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ওষুধগুলির সর্বোচ্চ খুচরো দাম (এমআরপি)–র ওপর ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বহু সংস্থাকে তাদের ব্র্যান্ডের দাম কমাতে বাধ্য হতে হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এনপিপিএ ইতিমধ্যেই ৩,৬০০টিরও বেশি নতুন ওষুধের ব্র্যান্ডের খুচরো মূল্য ঘোষণা করেছে, যাতে বাজারে নিয়ন্ত্রিত দাম নিশ্চিত করা যায়। একইভাবে করোনারি স্টেন্ট, নি ও হিপ রিপ্লেসমেন্ট–সহ নানা ধরনের অর্থোপেডিক ইমপ্লান্টের দামেও ঊর্ধ্বসীমা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র করোনারি স্টেন্টের ক্ষেত্রেই রোগীদের প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। নি ও হিপ–সহ অন্যান্য অর্থোপেডিক ইমপ্লান্টে সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

এ ছাড়াও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, পালস অক্সিমিটার, গ্লুকোমিটার–সহ বিভিন্ন মেডিক্যাল ডিভাইসের ট্রেড মার্জিন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

অনুপ্রিয়া প্যাটেলের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্য নিয়ন্ত্রণের ফলে ওবেসিটি, ডায়াবিটিস, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগ, পাশাপাশি সংক্রমণ ও ব্যথা নিবারণের মতো অ্যাকিউট রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণের জেরে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনা’–র মাধ্যমে সারা দেশে ১৭ হাজারেরও বেশি জনঔষধি কেন্দ্রে জেনেরিক ওষুধ ৫০–৮০% কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য এবং সরকারের দৃঢ় নীতি হলো—ওষুধকে সাশ্রয়ী ও নাগরিকের কাছে সহজলভ্য রাখা, যাতে রোগীকে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বইতে না হয় এবং একই সঙ্গে ওষুধের গুণমানও বজায় থাকে।”

মন্ত্রী আশ্বাস দেন, এনপিপিএ ও ডিপিসিও–র মাধ্যমে নির্ধারিত ওষুধ ও ইমপ্লান্টের দাম নিয়মিতভাবে আপডেট ও মনিটর করা হবে, যাতে ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষ এই সুবিধা পেতে পারেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!