- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৩
কবি বিজিৎ ভট্টাচার্য গুরুতর অসুস্থ। অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেডিকেল সার্পোট প্রত্যাহৃত। পাশে সবস্তরের গুণমুগ্ধরা
সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আর বিশিষ্ট কবি বিজিৎকুমার ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ জটিলতর আকার ধারণ করছে। সল্টলেকের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে অশীতিপর কবির চিকিৎসা করছেন একদল বিশেষজ্ঞ। তাঁদের প্রচেষ্টার ঘাটতি দেখা যায়নি। তবু সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাংলা কবিতার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিনিধি। শনিবার রাতে মেডিকেল সাপোর্ট প্রত্যাহার করে ভেন্টিলেশন থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয় কবিকে। নাটকীয়ভাবে অসুস্থ অবস্থা থেকে রেহাই পেলে চিকিৎসা পরিষেবায় এ এক দুর্লভ ঘটনা হয়ে থাকবে।
বাংলাভাষী সব এলাকার বিশিষ্টজন, কবি ও কবিতা পাঠক দুর্দিনে কবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবার একান্ত প্রার্থনা, সুস্থ জীবন-যাপনে যেন ফিরে আসেন সবার প্রিয় কবি ও প্রবাদপ্রতিম সম্পাদক। প্রায় ৮ দশক জুড়ে সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করছেন তিনি।ইদানিং চলা ফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।কিডনি বিকল, আক্রান্ত হৃদয়। ফুসফুসেও ভয়ঙ্কর সংক্রমণ। অসাধারণ জীবন শক্তি তাঁর। অতুলনীয় আত্মবিশ্বাস। কঠিনতম পরিস্থিতিতেও প্রাতিষ্ঠানিকতার সামনে মাথা নোয়ননি কখনো। তাঁর নিয়মিত সঙ্গী দুঃসাহস আর মানব প্রকৃতির বরাভয়।
বিজিৎবাবুর জন্ম বৃহত্তর সিলেটের করিমগঞ্জে। লেখাপড়া জন্মাঞ্চলের গ্রামে, শিলং ও গুয়াহাটিতে। পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনো করেছেন। হাইলাকান্দির শ্রীকৃষ্ণ সারদা কলেছে পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতেন। কলেজের ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটুকরো জমিতে ছিল তাঁর বাসস্থান, কবিতাচর্চা আর ফুলচর্চার মনোহর চত্বর। এখানেই গড়ে ওঠে সাহিত্য পত্রিকার দফতর। শিখা ভট্টাচার্য কেবল তাঁর জীবনসঙ্গী নন, মননেরও প্রতিনিয়ত সহযাত্রী। তাঁদের দুই সন্তান। মেয়ে বিবাহিত। ছেলে সর্বক্ষণের এসইউসি কর্মী। বিজিৎ বাবুর চিন্তা ভাবনায় জুড়ে থাকতেন মার্কস ও অ্যাঙ্লেস আর এসইউসির প্রতিষ্ঠাতা শিবদাস ঘোষ। তাঁদেরই আদর্শের চারা রোপন করেছিলেন বিজিৎ ভট্টাচার্য তাঁর কবিতায়, প্রবন্ধে এবং আত্মকথনে।বামপন্থী মতাদর্শে প্রবলভাবে উদ্দীপ্ত ছিল তাঁর ভাবাবেগ। সে ভাবাবেগকে কবিতার শরীর আত্মায় মাত্রারিক্ত প্রশ্রয় দেননি কখনো, বরাক উপত্যকার কবিতাচর্চার চিত্তজয়ী পুরোহিত । কবিতার শুদ্ধতা রক্ষায় বরাবর আপোসহীন তাঁর মনোভাব, তাঁর সূক্ষ্মতা।
❤ Support Us







