- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ২৮, ২০২৬
দুর্গম জঙ্গলের দায়িত্ব সামলে এবার কমনওয়েলথে রুপো, এএসআই জ্ঞানেশ্বরীর সাফল্যে গর্বিত ছত্তিশগড় পুলিশ
যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন। এই প্রবাদটা সত্যিই জ্ঞানেশ্বরী যাদবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কখনো ছত্তিশগড়ের দুর্গম জঙ্গলে মাওবাদী অভিযানে ব্যস্ত, কখনো আবার অ্যাথলিটে। দুই ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৩ কেজি ওজন বিভাগে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশকে রুপো এনে দিলেন ছত্রিশগড় পুলিশের এএসআই জ্ঞানেশ্বরী যাদব। এই ভারতীয় মহিলা ভারোত্তোলক স্ন্যাচে ৮৮ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি ওজন তুলেছেন। মোট ১৯৯ কেজি উত্তোলন করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেন জ্ঞানেশ্বরী। মোট ২০৬ কেজি (৯৩ + ১১৩) ওজন তুলে সোনা জিতেছেন নাইজেরিয়ার ওনোমে ওমোলোলা দিদিহ। কানাডার রেবেকা গ্রুলক্স মোট ১৭৮ কেজি (৮৩+৯৫) উত্তোলন করে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।
শুরু থেকেই পদকের দাবিদার ছিলেন জ্ঞানেশ্বরী। কিন্তু মাত্র ৭ কেজির ব্যবধানে স্বর্ণপদক জিততে পারেননি। জ্ঞানেশ্বরী তাঁর প্রথম প্রচেষ্টায় সফলভাবে ৮২ কেজি তোলেন। স্ন্যাচের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ৮৫ কেজি তোলেন। এরপর স্ন্যাচের তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ৮৮ কেজি তোলেন। স্ন্যাচে জ্ঞানেশ্বরীর তিনটি প্রচেষ্টাই সফল হয়েছিল। প্রতিটি প্রচেষ্টায় তিনি তাঁর ওজন বাড়িয়েছিলেন এবং তা তুলতে সফল হয়েছিলেন। জ্ঞানেশ্বরীর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তোলা ৮৮ কেজি কমনওয়েলথ গেমসের একটা রেকর্ড ছিল।, কিন্তু নাইজেরিয়ার ওনোমে ওমোলোলা দিদিহ ৯৩ কেজি তুলে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
স্ন্যাচের পর নাইজেরিয়ার দিদিহ এগিয়ে ছিলেন এবং জ্ঞানেশ্বরী দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে জ্ঞানেশ্বরী প্রথম চেষ্টায় ১০৩ কেজি ওজন তোলেন। এরপর তিনি ১০৭ কেজি এবং ১১১ কেজি ওজন তোলেন। স্ন্যাচের মতোই, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে জ্ঞানেশ্বরীর তিনটি প্রয়াসি সফল হয়েছিল। কিন্তু স্ন্যাচের মতোই, ক্লিন অ্যান্ড জার্কেও দিদিহ জ্ঞানেশ্বরীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। দিদিহ ক্লিন অ্যান্ড জার্কের তিনটি প্রয়াসে যথাক্রমে ১০৫, ১১০ এবং ১১৩ কেজি ওজন তুলে স্বর্ণপদক জিতে নেন।
২০০৩ সালে জন্মগ্রহণকারী জ্ঞানেশ্বরী যাদব ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার ভোদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ভারোত্তোলকদের মধ্যে অন্যতম। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক উভয় সার্কিটে ধারাবাহিক পারফরমেন্সের মাধ্যমে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ছত্তিশগড় পুলিশে সহকারী সাব–ইন্সপেক্টর (এএসআই) হিসেবে কর্মরত জ্ঞানেশ্বরী তাঁর ক্রীড়াজীবন এবং জনসেবার মধ্যে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন এবং লাইটওয়েট বিভাগে নিজেকে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ভারোত্তোলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসের আগে বাহরিনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের বিশ্ব ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিলেন। ২০২৫ সালে তাঁকে ছত্তিশগড়ের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘গুণ্ডাধুর সম্মান’ প্রদান করা হয়।
জ্ঞানেশ্বরী ছাড়াও মহিলাদের ভারোত্তোলনে দেশকে পদক এনে দিয়েছেন বিন্দিয়ারানি দেবী। মহিলাদের ৫৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্দিয়ানিরানি। তিনি স্ন্যাচে তোলেন ৮৭ কেজি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তোলেন ১১২ কেডি। মোট ১৯৯ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্দিয়ানিরানি। এই বিভাগে সোনা জিতেছেন নাইজেরিয়ার রাফিয়াতু লাওয়াল।
❤ Support Us







