- কে | রি | য়া | র-ক্যা | ম্পা | স ধা | রা | বা | হি | ক রোব-e-বর্ণ
- জুন ২৩, ২০২৪
ধারাবাহিক আত্মকথা : আমাদের বিদ্যানিকেতন
এআই চিত্র
আমিত্বহীনতার বৃত্তান্ত
বাইরের আমিকে বিসর্জন দিয়ে, ভেতরের আমির অন্যরকম ভাবনা আর অনুভূতি ছড়িয়ে দিলেন এনইএফ এর প্রধান স্থপতি। পুজিঁবাদও নব্যপুঁজির আগ্রাসন কীভাবে বিপদ ডেকে আনছে, চওড়া করছে শ্রেণীবৈষম্য, এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে ধনতান্ত্রিক আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির শূণ্যতা বিশ্লেষণ করে স্পষ্টভাষায় বললেন, কল্যানপ্রসূ অর্থব্যবস্থা আর সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলে দারিদ্য আর গরিবের অশিক্ষ, কুসংস্কার দূর করা সম্ভব। এ ব্যাপারে স্মরণ করলেন অর্থশাস্ত্রী অমর্ত্য সেন এর সামাজিক পছন্দ ( সোশ্যাল চয়েস) এর তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক সূত্রকে। পাশাপাশি নির্দ্বিধায় বললেন, গ্রামীণ ব্যাঙ্কের জনক মুহম্মদ ইউনূসের দায়বদ্ধ অবস্থান তাঁকে প্রভূত বিস্মিত আর অনুপ্রাণিত করেছে, সংহত শিক্ষায়তনের নির্মাণে।
সম্পাদক। ২৩.০৭.২০২৪
• পর্ব-৩৫ •
এনইএফ প্রয়োজন ভিত্তিক সংগঠন। ব্যক্তিপুঁজির নির্ভরতা এড়িয়ে আমরা গোড়া থেকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চেয়েছি, যেখানে সমষ্টি তার চেহারা দেখতে পাবে, অশিক্ষা আর অবজ্ঞার বিরুদ্ধে সমবেত লড়াই শুরু করবে।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একশ্রেণীর মানুষ অবহেলার শিকার, তাঁরা জীবিত না মৃত, তা বুঝতে পারেন না, দারিদ্র্য আর বৈষম্যের জাতাকলে বেঁচে থাকবার ইচ্ছেটাও হারিয়ে ফেলেন, বড়ো জোর এইটুকু বলতে পারেন। যে, সবই ভাগ্যের লিখন, ওপর-ওয়ালার ইচ্ছে অনিচ্ছায় পরিচালিত। সমাজ তাঁদের এই শিক্ষাই দেয়, যে পথে চলেছ, সে পথেই চলতে থাকো, ভালো কাজ করলে পরকালে পুরষ্কৃত হবে।
সামাজিক নেতৃত্বের এই সব অলিখিত, অনুশাসন থেকেই মুক্ত থাকবার যে প্রয়াস, যে প্রক্রিয়া গড়ে তোলা জরুরি, তার নাগাল পায় না দুর্বল, পীড়িত, সহায়হীন প্রান্তিক জন গৌষ্ঠী। কায়েমি স্বার্থ তাঁদের ভাগ্য নির্মাণের আত্মশক্তি লোপাট করে দেয়, কখনো ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে, কখনো বা জাতি বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, ভাষা ভিত্তিক বৈরিতা ছড়িয়ে। অসমের মতো বিচিত্র ভূখন্ডে বারবার এসব অপ খেলা সংগঠিত হয়েছে। রক্ত ঝরেছে। সে স্রোত আজ ক্ষীণ, কিন্তু নিশ্চিহ্ন নয়, খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে ঢের বেশি কৌশলী। এরকম বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, আমরা মানুষকে যথাসম্ভব সচেতন করে তোলবার চেষ্টা করছি। এখানে এক শক্তির চেয়ে বহুজনের অভিপ্রায়কে অনেকানেক গুরুত্ব দিই। ড. অর্মত্য সেন, যাকে সামাজিক পছন্দ বলেছেন। আমরা সে পছন্দের সংহত, সাগ্নিক সারথি। আমাদের ‘এক হাতে বাঁশের বাঁশরি,’ অন্য হাতে ভয়হীন, নিধনহীন রণতূর্য। ক্ষুধা আর অশিক্ষাকে প্রতিহত করবার এটাই সম্ভবত সেরা অবলম্বন।
পুঁজিবাদে সার্বিক আস্থা রাখতে পারি না। সে শুধু গ্রাস করতে জানে। শোষণ আর অপশাসন তার একমাত্র ধর্ম। পৃথিবীর সর্বত্র নব্য পুঁজিতন্ত্র যেমন মাথা তুলছে, তেমনি তার অবক্ষয় আর ধ্বংস সে নিজেই ডেকে আনছে। করোনা মহামারির পর পুঁজিবাদের সঙ্কট ক্রমশ বাড়ছে।
পুঁজির কল্যানমুখী অভিমুখ স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রের সঙ্গে তার আঁতাত দুর্বোধ্য। কোথাও সে রাষ্ট্রবাদী, কোথাও জনবাদী। জনবাদিত্য মুখোস নয় তো? সংশয় জাগে। কেননা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া পুঁজির বিকাশ সম্ভব নয়। এ কারণে সামাজিক পুঁজি গড়ে তুলতে হবে সমবায়ের ভিত্তিতে। এতেও সুষ্ঠ বণ্টন কতটা সম্ভব, সন্দেহ আছে।
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থ ভান্ডার গড়েছিল, ফায়দা হয়নি। জনতার হাতে বিকাশের ফসল পৌঁছোয়নি। বরং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ল। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংস্থা সর্বত্র গজিয়ে ওঠে, ইদানীং রাশিয়া-সহ পূর্ব ও মধ্য এশিয়ার প্রতিটি সাবেক দেশ মুক্ত অর্থনীতি চালু করেছে। যে চিন এসব দেশকে সমাজতান্ত্রিক সম্ভোজ্যবাদে দূষিত বলে বয়কটের রাস্তা ধরেছিল, সেও গত শতাব্দীর সত্তর দশক থেকে স্লোগান জুড়ে দেয়, ইট ইজ প্রাউড টু বি রিচ। মাও সে তুঙ-এর জীবদ্দশাতেই, চিন পুঁজির বিকাশকে প্রশ্রয় দিতে থাকে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চিকিয়ে রেখেই মুক্ত বাজারের আমদানি-রপ্তানিকে উৎসাহিত করে। এতে ব্যক্তি অথবা সংস্থার মালিকানাধীন পুঁজি মাথা চাড়া দেয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, বৃদ্ধি পায় উৎপাদন। পাশাপাশি শ্রেণী বৈষম্যের প্রকট চিত্রও নজরে আসে। চিনের সমূহ অর্থনৈতিক কৌশল জানার উপায় নেই। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোর। পশ্চিমি ব্যাখার উপর আমাদের নির্ভর করতে হয়, তা কতটা নিরপেক্ষ বলা মুশকিল। কিছু সন্দেহজনক, উদ্দেশ্যমূলক সত্য-অর্ধসত্যের ভিত্তিতেও স্বীকার করতে হয়, তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি আর্থিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতি বিস্ময়কর। বিশ্বে সে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থশক্তি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এগোচ্ছে। চিনের জিডিপি ১৯,৩৭৪ বিলিয়ন। মাথা পিছু আয় ১৩,৭২৪ ডলার। পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, দক্ষিন এশিয়ায় চিনের নিঃশব্দ প্রবেশ মার্কিন পুঁজির উদ্বেগের ইস্যু হয়ে উঠেছে। চিনকে রুখতেই কি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, অবাধে বাণিজ্য তরীর যাতায়াত দাবি করছে পশ্চিমি দুনিয়া ?

কায়েমি স্বার্থ তাঁদের ভাগ্য নির্মাণের আত্মশক্তি লোপাট করে দেয়, কখনো ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে, কখনো বা জাতি বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, ভাষা ভিত্তিক বৈরিতা ছড়িয়ে। অসমের মতো বিচিত্র ভূখন্ডে বারবার এসব অপ খেলা সংগঠিত হয়েছে। রক্ত ঝরেছে। সে স্রোত আজ ক্ষীণ, কিন্তু নিশ্চিহ্ন নয়, খেলোয়াড়রা আগের চেয়ে ঢের বেশি কৌশলী
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও চিনে পুঁজির বিকাশ অপ্রতিহত। সমূহ উন্নয়ন সব অংশের মানুষকে কতটা স্পর্শ করছে, এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। শ্রেণী বৈষম্য কি বাড়ছে? চিনে ধনী ও গরিবের পার্থক্য তাঁদের নজর এড়ায়নি। বিকাশের ছবির পাশাপাশি দারিদ্র্যের অবস্থান যদি সত্য হয়, তাহলে মার্কিন পুঁজির মতো চিনের পুঁজিসঞ্চয়েও ফাটল দেখা দেবে। বাড়বে গণ অসন্তোষ। অতিরিক্ত মুনাফা, অতিরিক্ত লোভ, অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা পুঁজিতন্ত্রের বিপদ ডেকে আনে। চিন এরকম সম্ভাব্য বিপদের মোকাবিলা কীভাবে করছে, করবে, তা জানবার সব পথ রুদ্ধ। কন্ঠরোধ কতদিন পোষ মানবে বলা মুশকিল।
এরকম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সামাজিক পুঁজি, সামাজিক ব্যবসার বিকাশ অর্থাৎ যে-কোনো সংস্থার মুনাফার সমবন্টন আর আত্মনিয়ন্ত্রণ ধনতন্ত্রের সবগ্রাসী অভিপ্রায় থেকে বিশ্বকে মুক্তি দিতে পারে। এটাই সম্ভবত বিকল্প ব্যবস্থা, পুঁজির উত্তরণ বহাল থাকবে, তার ব্যবহারে সাধারণের সংযোগ তৈরি হবে। লাভবান হবেন মালিক, শ্রমিক ও উপভোক্তারা।
গ্রামীন ব্যাঙ্কের নোবেল জয়ী অর্থশাস্ত্রী মহাম্মদ ইউনুস ২১ শতকের গোড়ার দিকে দুটি স্লোগান তুলেছিলেন। ক. দারিদ্র্য যাদুঘরে যাক। খ. গড়ে উঠুক সামাজিক ব্যবসা।
পুঁজির বিকাশকে সমূহের উন্নয়নের অন্তরায় ভাবেন না অধ্যাপক ইউনূস। কিন্তু তার আগ্রাসন থেকে গরিবকে বাঁচাতে ফলিত অর্থনীতির কৌশল প্রয়োগ করে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক গড়ে তুলে আয় আর সঞ্চয়ের বিকল্প ব্যবস্থা খাড়া করলেন। কর্মসংস্থান তৈরি হল লক্ষ লক্ষ মানুষের। বিশেষ করে বঞ্চিত, পরিবারের পীড়িত মহিলাদের। ইউনূসের তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত তাঁর ব্যবহারিক অর্থনীতির কৌশল ও প্রতিস্পর্ধা। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট সংস্থার মুনাফা অর্জনের একমুখী অভিপ্রায়কে রুখতে সামাজিক ব্যবসার তত্ত্ব পেশ করেছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠান, বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর আবিষ্কৃত সূত্রের প্রয়োগ ও চর্চা হচ্ছে।
সামাজিক ব্যবসা বলতে কী বুঝিয়েছেন ড. ইউনুস ? বলেছেন, এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা। মুক্ত বাজারের লক্ষ্য থেকে চরিত্র তার আলাদা। গন্তব্যও ভিন্নতর। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ে সমৃদ্ধ আর অতিরিক্ত আয়প্রবন যে-সব সংস্থা বিরাজ করছে, কেবল তাদের নীতি আর কৌশলের সংশোধনের দাবি পেশ করে জানিয়েছেন, আমি চাই এমন একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থা, যার সঙ্গে সমাজের দরিদ্রতর, থেকে দরিদ্রতম মানুষকে যুক্ত হবেন। সুবিধাভোগী শ্রেনী নয় শুধু। এই ধরণের ব্যবসার সুফল ভোগ করবেন তৃণস্তরের অবহেলিত, পীড়িত, বঞ্চিত সব অংশ। এর উদ্দেশ্য নিছক পুঁজি সঞ্চয় অথবা মুনাফা অর্জন নয়, তার মানব সেবার মুখও স্পষ্ট হবে, যেখানে লোকসানের ঝুঁকি নেই, অতিরিক্ত মুনাফার লোভ নেই, কিন্তু বিনিয়োগের নিরাপত্তা থাকবে। যে-সব সংস্থা লগ্নি করবে, তাঁদের মূলধনে হাত পড়বে না, তাঁরা শেয়ারের অংশ নেবেন না, অর্জিত মুনাফা ব্যবসার প্রসারে, উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ ও গুনমানের বৃদ্ধিতে খরচ হবে। সঞ্চিত থাকবে সংস্থার তহবিলে। কর্মীরা বেতন পাবেন, তাঁদের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবে প্রতিষ্ঠান।
প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা, ব্যবসার বহুমুখিতা তার দক্ষতাকে জড়ো করে, আয়ত্তে এনে এক বা একাধিক সংস্থা। মিলিত প্রয়াসে সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন সংস্থা গড়তে গড়তে এই ধরনের ব্যবসার নকশা এঁকেছিলেন ড. ইউনূস। তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। সাফল্য ছুঁয়েছে সংস্থাকে। উৎসাহ যুগিয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্যপ্রযুক্তি বা পূনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কোনো সংস্থাই লোকসানের মুখোমুখি হয়নি, কল্যানমুখী প্রতিষ্ঠানের চেহারা নিয়ে অবস্থান করছে।
ড. ইউনূসের লক্ষ্য সুচিহ্নিত। উৎপাদিত পণ্য যাতে ক্রমাগত বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, পরিষেবা যাতে আরো বিস্তৃত হয়, গোড়া থেকেই এ দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন ফলিত অর্থনীতির গবেষক। বৃহত্তর চাহিদাই তাঁর একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক মুনাফাকে কখনো আমল দেননি। এভাবেই ক্রমশ তাঁর বিশ্বাস, তাঁর অঙ্গীকার আরো জোরালো হয়ে ওঠে যে, সমাজের প্রয়োজনকে উঁচু করে, বাজারের স্বার্থ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেও স্বতন্ত্র ব্যবসার নির্মাণ সম্ভব। পরীক্ষা-নিরিক্ষার আরম্ভে দানোন-এর সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলে। এঁদের সংস্পর্শে এসে ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার ধারণা আরো বলবান চেহারা নেয়। তখনই তিনি প্রস্তাব পেশ করেন – পুঁজির নিরাপত্তা রক্ষা ছাড়া উভয়পক্ষ একপয়সাও মুনাফা নেবে না। দানোন তার প্রস্তাব মেনে নেয়। এই নীতির ভিত্তিতেই তাঁরা চোখের হাসপাতাল তৈরি করেন। গ্রামে গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। জল প্রকল্পে গ্রামীনের সহযোগী ফ্রান্সের ভিয়েলিয়া। দুপক্ষের কেউই জল সরবরাহ করে মুনাফা করে না, জল বিক্রির টাকায়, কোম্পানি পরিচালনার খরচ জোগাড় করে নেয়। গ্রামীনের আদর্শগত অবস্থান দেখে, বহু সংস্থা সামাজিক ব্যবসা নির্মান করেছে। ড. ইউনূসের প্রগাঢ় বিশ্বাস, সামাজিক দায়বদ্ধতাকে উঁচিয়ে ধরে গরিবের জন্য, গরিবের হাতে হাত রেখে, দেশে দেশে অনুরূপ কল্যানমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।
এনইএফ-এরও-শিক্ষা প্রচারের মূল লক্ষ্য সমাজ। মুনাফা নয়। পুঁজিসঞ্চয় নয়। যেখানে দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস সামাজিক ব্যবসার পরিকল্পনা পেশ করে বহু প্রতিষ্ঠানকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, সেখান থেকে আমাদের দূরত্ব নগণ্য। বিনিয়োগ করি সমাজের স্বার্থে, শিক্ষা প্রসারের তাগিদে। আমাদেরও দাবি, দারিদ্র্য আর অশিক্ষা যাদুঘরে যাক। আলো ছড়িয়ে পড়ুক গুহার ভেতরে। দূর হোক স্থায়ী অন্ধকার।
♦•·——·•♦♦•·——·•♦♦•·——·•♦
ক্রমশ…
♦—♦♦—♦♦—♦♦—♦
লেখক: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম বেসরকারি কলেজ গোষ্ঠী এন.ই.এফ-এর চেয়ারম্যান। গুয়াহাটির বাসিন্দা
আগের পর্ব পড়ুন: পর্ব-৩৪
❤ Support Us








