Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
  • জুন ১১, ২০২৫

ফ্যালকন-৯ রকেটে অক্সিজেন লিক, আবার থমকাল শুভাংশুর মহাকাশযাত্রা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফ্যালকন-৯ রকেটে অক্সিজেন লিক, আবার থমকাল শুভাংশুর মহাকাশযাত্রা

১১ জুন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় ‘গগনযাত্রী’কে নিয়ে রওনা দেওয়ার কথা ছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের, শেষ মুহূর্তে ফের থমকাল শুভাংশু শুক্লার মহাকাশযাত্রা। উৎক্ষেপণের আগেই দেখা দিল কারিগরি ত্রুটি। তরল অক্সিজেন বা এলওএক্স লিক ধরা পড়ায় স্থগিত করা হল বহু প্রতীক্ষিত অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশন। এ নিয়ে চতুর্থ বার পিছোল এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও, প্রথমে আবহাওয়া খারাপ থাকায় তা গড়ায় বুধবারে। কিন্তু উৎক্ষেপণের আগেই সাত সেকেন্ডের একটি ‘হট টেস্ট’-এ ধরা পড়ে রকেটের বুস্টার অংশে অক্সিজেন লিকের বিষয়ট। ফলে, আপাতত স্থগিত মিশন। নতুন দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি।

স্পেসএক্স বজানিয়েছে, ‘এএক্স-৪ মিশনের অন্তর্গত ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অক্সিজেন লিক সারানোর জন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন। কাজ শেষ হলে এবং উৎক্ষেপণের অনুমতি পাওয়া গেলে নতুন দিন ঘোষণা করা হবে।’ এর আগে স্পেস এক্স জানিয়েছিল, ৮৫ শতাংশ অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও, উৎক্ষেপণের পথে উপর দিককার বাতাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও উৎক্ষেপণ স্থগিতের কথা নিশ্চিত করেছে, ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, ‘স্পেসএক্স, অ্যাক্সিয়ম এবং ইসরোর যৌথ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্পূর্ণ মেরামত ও পুনরায় যাচাই ছাড়া উৎক্ষেপণের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিরাপত্তা আর সঠিকতা এই মিশনের সর্বোচ্চ লক্ষ্যবস্তু।’

প্রসঙ্গত, ফ্যালকন-৯ রকেট আংশিক পুনঃব্যবহারযোগ্য। বুস্টার অংশটি ফের পৃথিবীতে ফিরে আসে, যা সংষ্কারের পরে আবার ব্যবহার করা যায়। এই বুস্টারটিই এপ্রিল মাসে একটি স্টারলিঙ্ক মিশনে ব্যবহৃত হয়েছিল। তখনই ফেরার পথে একটি এলওএক্স-এ লিক দেখা দেয়। ওই ত্রুটি কি আদৌ পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্পেসএক্সের কর্মকর্তা উইলিয়াম গার্সটেনমায়ার জানিয়েছেন, ‘আমরা হট টেস্টে সেই লিক ফের চিহ্নিত করেছি। এ বার রকেটে একটি ‘পার্জ’ ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে, যা উৎক্ষেপণের দিনও যদি লিক দেখা যায়, তা সামাল দিতে পারবে। পাশাপাশি ইঞ্জিন ৫-এ সমস্যা ধরা পড়েছিল, সেটিও মেরামত করা হয়েছে।’ নাসা ও অ্যাক্সিয়ম স্পেস জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত উৎক্ষেপণের একাধিক সময়সূচি রয়েছে। তার পর জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ফের সুযোগ মিলবে। ফলে উৎক্ষেপণের বিকল্প সময় থাকলেও, নির্দিষ্ট দিন নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত মেরামতের অগ্রগতির উপরে। এই মিশনে ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুর শুল্কার সঙ্গে রয়েছেন হাঙ্গেরির তিগোর কাপু আর পোল্যান্ডের স্লাওস উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি। মোট ১৪ দিনের এই যাত্রায় তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থেকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবেন। গবেষণার মূল ক্ষেত্র হবে মাইক্রোগ্র্যাভিটি, পদার্থবিজ্ঞান আর জীববিজ্ঞান। শুভাংশু মহাকাশে নিয়ে যাবেন মেথি ও মুগ ডালের বীজ। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে এই বীজের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি পরীক্ষা হবে। পরে সেই বীজ ফেরত এনে করা হবে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বিশ্লেষণ। উদ্দেশ্য— ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে আত্মনির্ভর খাদ্য-ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

উল্লেখ্য, ভারতের পক্ষ থেকে এই মিশনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। নাসা, স্পেসএক্স, অ্যাক্সিয়ম স্পেস, ও ইসরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিশনই ভারতের তরফে দ্বিতীয় মানব মহাকাশযাত্রা। শেষ, ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন। ৪০ বছরের অপেক্ষার পরে দেশের গগনযান অধ্যায়ে নতুন সূচনা লিখবে এই অভিযান। আপাতত সেই ঐতিহাসিক দিনটির জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!