- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- আগস্ট ১৬, ২০২৫
ড্যাংয়ের পুতুলনাচকে বাঁচিয়ে রেখেছে খাগড়াকোনা গ্রাম
লুপ্তপ্রায় ড্যাংয়ের পুতুলনাচ টিকিয়ে রেখেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাকড়াকোনা গ্রাম। হারিয়ে যেতে বসা বাংলার অন্যতম লোকসংস্কৃতি ‘ড্যাংয়ের পুতুলনাচ’কে বহুকষ্টে বাঁচিয়ে রেখেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাকড়াকোনা গ্রাম। ড্যাংয়ের পুতুলনাচ আদতে কী? জবাব দিলেন কালনা শহরের ঐতিহ্যবাহী মহিষমর্দিনী পুজোয় পুতুলনাচের দল নিয়ে আসা ‘জ্ঞানদা পুতুলনাচ সংস্থা’র কর্ণধার মাধব চক্রবর্তী। আলাদা আলাদা লাঠির উপরে আলাদা আলাদাভাবে কাঠের পুতুল রাখা হয়। পুতুলগুলিকে সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক কাহিনীর চরিত্রে সাজানো হয়। তারপর নেপথ্য থেকে শিল্পীরা মঞ্চের উপরে ওই পুতুলগুলি সঞ্চালনার মাধ্যমে নানান পৌরাণিক ও সামাজিক ঘটনাকে ভিত্তি করে পালা দেখানো হয়। এই হল ‘ড্যাংয়ের পুতুলনাচ’। এই নাচে শিশুদের আকর্ষণ বেশি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাকড়াকোনা গ্রামের বাসিন্দা জ্ঞানদা চক্রবর্তী এই পুতুলনাচের দল তৈরি করেছিলেন। ‘জ্ঞানদা পুতুলনাচ সংস্থা’ নামে ওই দলটি তিনপুরুষ ধরে বাংলার এই লুপ্তপ্রায় নৃত্যশৈলী টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমান কর্ণধার মাধব চক্রবর্তী তাঁর এই দলটি নিয়ে ফি-বছর কালনার মহিষমর্দিনী পুজো উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলায় আসছেন। সত্তরোর্ধ্ব মাধববাবুর আফশোস, ‘জানি না কতদিন এই নাচ টিকিয়ে রাখতে পারব! এই নাচের শিল্পী হতে এখন আর কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আর দেখাবেইবা কেন? ডাকইতো মেলে না। এই মহিষমর্দিনীতলার মত হাতেগোনা কয়েকটা বাঁধা জায়গা রয়েছে। ডাক পাই। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে? ভাগ্যিস রাজ্য সরকার শিল্পী ভাতা চালু করেছে। তাই কষ্ট করে হলেও শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি।’
মাধববাবুর দলে মোট ১০ জন সদস্য রয়েছেন। দলের সদস্যরা কেউ হকারি, কেউ দিনমজুরি, কেউ টুকটাক ব্যবসা করেন। আর ডাক পেলে পুতুল কাঁধে ছোটেন। তবে বায়না তেমন না পেলেও পুতুলনাচের শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রাজ্য সরকার। মাসে ১ হাজার টাকা করে শিল্পী ভাতা, সরকারি কর্মসূচিতে ডাক পাচ্ছেন জানিয়ে মাধববাবু জানান, ‘সরকার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিদান হিসেবে যতদিন পারব এই ড্যাংয়ের পুতুলনাচ দেখিয়ে মনোরঞ্জন করার কাজ চালিয়ে যাব।’
❤ Support Us








