Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৬, ২০২৬

‘কিয়া বোলতি পাবলিক’, প্রশ্নফাঁসের পর এবার বেকারত্ব, শিক্ষার খরচে নজর। দেশজুড়ে নতুন অভিযানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘কিয়া বোলতি পাবলিক’, প্রশ্নফাঁসের পর এবার বেকারত্ব, শিক্ষার খরচে নজর। দেশজুড়ে নতুন অভিযানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

নিট প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে নিজেদের পরিচিতি বাড়িয়েছে অভিজিৎ দীপকে প্রতিষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সে আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে বেকারত্বশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের  ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মসূচির ঘোষণা করলেন দীপকে। তবে, এ মুহূর্তে মূলধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনী রাজনীতিতে ঝাঁপ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। পরিবর্তেমানুষের দৈনন্দিন সমস্যাবিশেষ করে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রশ্নকে সামনে রেখে জনসংযোগের পথেই এগোতে চায় সিজেপি।

বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাসভবনে দলের দুদিনব্যাপী কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে আগামী মাস থেকে দেশজুড়ে ক্যা বোলতি পাবলিক’ বা ‘কী বলছে জনতা’ নামে একটি সর্বভারতীয় কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা করেন দীপকে। উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাসমুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। দীপকের বক্তব্যএ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের প্রকৃত সমস্যার কথা জানা। তিনি বলেন, ‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা জানতে চাইদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী, তাঁরা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মানুষের মতামতই আমাদের আগামী কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করবে। 

এই জনসংযোগ অভিযানে সিজেপি’-র তরুণ সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। মানুষের সুবিধা-অসুবিধাশিক্ষাকর্মসংস্থানমূল্যবৃদ্ধিজীবিকাভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের মতামত সংগ্রহ করা হবে। সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করবে ‘ককরোচ’দের দল। অভিজিৎ এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেনআগামী দিনে দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হবে বেকারত্ব। তাঁর দাবিদেশের সবচেয়ে বড়ো সংকটগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। তিনি বলেন, ‘বেকারত্ব দেশেরর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। আমরা এটিকে সর্বভারতীয় ইস্যুতে পরিণত করব।’ তাঁর মতেযন্তর মন্তরের আন্দোলনে শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকও অংশ নিয়েছিলেন। তিনি জানানদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নীচে এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বড়ো অংশই ছিলেন এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। সে কারণেই যুবসমাজের কর্মসংস্থানকে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চায় সিজেপি।

বেকারত্বের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারকে দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেন সিজেপি প্রধান। তাঁর অভিযোগস্কুল স্তর থেকেই শিক্ষা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ফিঅনুদান  আর  কোচিং মাফিয়ার কবলে পড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে চরম আর্থিক চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা সংস্কারই হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয়। আমরা মনে করিদেশে শিক্ষা এখন আর সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই। অনেক বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতেই বার্ষিক ফি এক থেকে দুই লক্ষ টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে অনুদান বা ডোনেশনের অতিরিক্ত বোঝা।’ এই পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলির পক্ষে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিজিৎ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যে পরিবারগুলির আয় সীমিততারা কোথা থেকে এত টাকা জোগাড় করবে?’ তাঁর অভিযোগশুধু স্কুল নয়কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং সেন্টারগুলির ক্রমবর্ধমান ফিও অসংখ্য পরিবারকে ঋণের বোঝার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেই আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তুলবে সিজেপি। বাবাসাহেব আম্বেকরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দীপকে বলেন, ‘শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সে অধিকার ক্রমশ বাজারনির্ভর হয়ে পড়েছে। শিক্ষা এখন মুনাফা অর্জনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাই।’

গত মাসে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপি’-র নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গও এ দিন উঠে আসে। দীপকের দাবিআন্দোলনের ফলেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর দাবিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের মনে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিলতা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। মানুষ আবার রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। আজ একজনের পদত্যাগ দাবি করেছেআগামী দিনে আরও অনেকের পদত্যাগের দাবিও উঠবে। মুম্বইয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতেএ উদ্যোগ অনেক দেরিতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০ জুলাই যখন ছাত্রদের মারধর করা হয়েছিলতখনই তাঁদের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। বিজেপির আদর্শগত পথপ্রদর্শক হিসেবে মোহন ভাগবতেরই সেই সময় এগিয়ে এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।’

দলের আদর্শগত অবস্থানও স্পষ্ট করেন দীপকে। তাঁর বক্তব্যসিজেপির আদর্শ ভারতের সংবিধানের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বাবাসাহেব আম্বেকরমহাত্মা গান্ধী এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উন্নত ভারতের যে স্বপ্নসে দর্শন মেনেই সিজেপি কাজ করবে। আমাদের আদর্শ ভারতের সংবিধানেরই আদর্শ।’ একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেনমানুষের সংবাদমাধ্যমের উপর যে আস্থা কমেছেতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!