Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৫, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্ট ডিলিট বিতর্ক : কেন্দ্রের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ক্ষমা চাইলেন ‘মেটা’ প্রধান মার্ক জাকারবার্গ!

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্ট ডিলিট বিতর্ক : কেন্দ্রের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ক্ষমা চাইলেন ‘মেটা’ প্রধান মার্ক জাকারবার্গ!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপড়েন আরও তীব্র হলো। সরকারের তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ শিশু যৌন নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তু, ডিপফেক এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, বুধবার কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মেটার শীর্ষ প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এমনই দাবি করেছে কেন্দ্র।  একই সঙ্গে সংস্থার তরফে পোস্ট সরানোর ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলেও জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে।

বুধবার কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মেটার শীর্ষ প্রতিনিধিদলের বৈঠক এবং তার আগে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক দাবি সামনে আসে। জানা যায়, বৈঠকে শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, শিশুদের সুরক্ষা, ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার, ডিপফেক, কনটেন্ট মডারেশন, প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ‘মেটা’-র আইনি অবস্থান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২৩ জুলাই। সেদিন তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’-র উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তরুণদের উদ্দেশে বিভিন্ন বার্তা দেন। অভিযোগ, ওই ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুকে আর দেখা যায়নি।

বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত বিতর্কের ঝড় ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি পুনর্বহাল করে ‘মেটা’ জানায়, এটি একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ বা ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’-এর ফল। সংস্থার তরফে ক্ষমাও চাওয়া হয়। কিন্তু সরকারের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যার ব্যাখ্যা এ ঘটনার গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সামিল। সে কারণেই সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। বৈঠকের পর কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, ‘মেটা’-র প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ফেসবুকে দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট এভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কেবল প্রযুক্তিগত ভুল হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর জন্য দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এর পরই সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তিন দিনের মধ্যে তা না হলে, তাঁর আইনি সুরক্ষা ও বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, এ বার্তার পরেই ‘মেটা’-র তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়।  বুধবার ‘মেটা’-র গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গেও তাঁদের বৈঠক হয়। সূত্রের দাবি, আলোচনার সময় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে ভারতের ডিজিটাল পরিসরে কাজ করতে হলে ভারতীয় আইন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তুর প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পায়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্টের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্ল্যাটফর্মগুলির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বৈঠকে মেটাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন এখনো পর্যন্ত এ ধরনের কনটেন্ট পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি, কেন বারবার এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। সূত্রের আরও দাবি, আলোচনায় সরকার ‘মেটা’ কর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে একই সঙ্গে আইনের সুরক্ষা দাবি করা যায় না।

বৈঠকে মেটার তরফে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট, ডিপফেক এবং কনটেন্ট মডারেশনের বিভিন্ন ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। পাশাপাশি সংস্থা না কি স্বীকার করেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে কনটেন্ট পরিচালনায় ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে। যদিও এ দাবিগুলি সম্পর্কে মেটার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ‘সেফ হারবার’ বা আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে আসে। কেন্দ্রের তরফে জাকারবার্গের সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা কেবল নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে— এ যুক্তি সরকার মেনে নিতে রাজি নয়। কারণ, ‘মেটা’-র নিজস্ব অ্যালগরিদমই ঠিক করে কোন কনটেন্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন পোস্ট বেশি প্রচার পাবে এবং কোন বিষয়বস্তু ব্যবহারকারীদের সামনে অগ্রাধিকার পাবে। সে কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে ইন্টারমিডিয়ারিদের জন্য যে সুরক্ষা রয়েছে, তা মেটার ক্ষেত্রে আদৌ প্রযোজ্য কি না, সেই প্রশ্নও সরকার তুলেছে।

কেন্দ্রের এ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে প্রাপ্ত ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষাই এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলিকে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় থেকে রক্ষা করে এসেছে। এখন সেই সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন করে আইনি ও নীতিগত বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, বুধবারের বৈঠকেই আলোচনা শেষ হচ্ছে না। ‘মেটা’-র প্রতিনিধিদের আবারও আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ভারতের আইনের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য, শিশুদের নিরাপত্তা, ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!