- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৫, ২০২৬
কেরলে বন্যায় মৃত ২৫, অসমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭, বিপর্যস্ত ওড়িশায় ৬ জনের মৃত্যু
একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কেরল। দক্ষিণের এই রাজ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় এখনও পর্যন্ত কেরলে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, অসমে বন্যাপরিস্থিতিক কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭–তে দাঁড়িয়েছে। দুই রাজ্যেই হাজার হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রশাসন এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ।
১ আগস্ট থেকে কেরালায় অবিরাম ভারী বর্ষণে বেশ কয়েকটি জেলার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখনও পর্যন্ত ২৫ জন মারা গেছেন, ৪জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। এই কদিনের ভারী বর্ষণে ৫২টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং ৫৬৫টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ৪০০টিরও বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কেরলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পাথানামথিট্টা, কোট্টায়াম এবং আলাপ্পুঝা। এই জেলাগুলির বহু নিচু এলাকা এখনও জলমগ্ন রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, ১ থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে কেরলে ২০৫.৮ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭৩.২ মিমি। অর্থাৎ এই রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ক্রমাগত খারাপ আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, আইএমডি পাথানামথিট্টা, কোট্টায়াম, ইডুক্কি, এর্নাকুলাম, কোঝিকোড়, ওয়ানাড়, কান্নুর এবং কাসারগোড় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে, এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃষ্টি ও বন্যার কারণে হাজার হাজার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, সন্তানদের স্কুলের বইপত্র এবং গৃহস্থালীর জিনিসপত্র ভেসে গেছে। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নথি পুনরায় ইস্যু করতে বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে এবং শিশুদের নতুন পাঠ্যবই সরবরাহ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানো ব্যক্তিদের অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও, প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য ২৫০০০ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
অসমের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সংকট এখনও কাটেনি। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শিবসাগর জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ বছরের বন্যায় অসমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৭। রাজ্যের ছটি জেলা এখনও বন্যার কবলে। প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার মানুষ এখনও বন্যাপীড়িত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা। এই জেলায় ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। এছাড়া চরাইদেও এবং জোরহাটেও হাজার হাজার মানুষ এখনও বন্যার জলে ডুবে রয়েছেন।
পূর্ব ভারতের ওড়িশাও বন্যার কবলে। এখনও পর্যন্ত বন্যায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৫৬৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি এসডিআরএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী ফসল ও গবাদি পশুর ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রাজ্যের ২২টি জেলায় প্রায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বন্যা-আক্রান্ত মানুষের জন্য ১১০ কোটি টাকার একটি প্রাথমিক ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য রাজ্য সরকার সমীক্ষা শুরু করেছে।
❤ Support Us





