- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৫, ২০২৬
ধারা ৩৭০ অবলুপ্তির সাত বছর ! জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখে ‘উন্নয়ন’-এর দাবি প্রধানমন্ত্রীর, ভিন্ন মত ওমর-মেহবুবার
সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিলের সাত বছর পূর্তিতে ফের সরগরম জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতি। এক দিকে কেন্দ্রের দাবি, ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের সিদ্ধান্তের পর উপত্যকা ও লাদাখে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলেছে। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের আঞ্চলিক দলগুলির বক্তব্য, বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ‘ক্ষত’ এখনো শুকোয়নি। বুধবার দিনভর শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টা কর্মসূচিতে স্পষ্ট হয়ে উঠল সেই রাজনৈতিক বিভাজন।
ধারা ৩৭০ বাতিলের সপ্তম বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, গত সাত বছরে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে সাধারণ মানুষের জীবনে ‘ব্যাপক পরিবর্তন’ এসেছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোগপতিত্ব এবং ক্রীড়া— বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ বেড়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। সমাজের প্রান্তিক মানুষ এবং মহিলারাও সাংবিধানিক অধিকারের পূর্ণ প্রয়োগের ফলে ক্ষমতায়িত হয়েছেন বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কেন্দ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি নাগরিককে ‘বড় স্বপ্ন দেখা, তা পূরণ করা এবং বিকশিত ভারত গঠনে অবদান রাখার’ সুযোগ দিতে চায় কেন্দ্র সরকার।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা বাতিল করে। একই সঙ্গে তৎকালীন রাজ্যটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল— জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভাগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ দিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, জাতীয় ঐক্যের জন্য মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূর্ণতা পেয়েছে। ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ একীকরণের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ৩৭০ ধারা বাতিল।
কেন্দ্রের বক্তব্যের সম্পুর্ণ বিপরীতে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘ক্ষত এখনও শুকোয়নি।’ বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)। এনসির নেতা, বিধায়ক এবং কর্মীরা শ্রীনগরের নওয়াই-সুবহ পার্টি দফতর থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল এবং বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। দলের নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ‘কেড়ে নেওয়া হয়েছে’। জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সাকিনা ইটু বলেন, ‘আমাদের বিশেষ মর্যাদা এবং অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সে দাবিতে আমাদের দল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে, পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীনগরের সোনওয়ার এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেন। ডালগেটের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। ইলতিজার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চাই। কিন্তু সেই অধিকার থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে জেন-জি বিভিন্ন জায়গায় সরকারকে নতজানু করেছে, আমরাও একই ভাবে নিজেদের দাবি আদায় করব।’
বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বলেন, তিনি কোনো প্রতিবাদ দেখেননি। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র সরকারের সাহসী সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মীরের ‘বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান’ ঘটিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতেই মেহবুবা মুফতি দলের নেতা ও বিধায়কদের নিয়ে শ্রীনগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেন। মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। মুফতির বক্তব্য, ২০১৯ সালের ৪ অগস্টের রাত থেকে যে পরিস্থিতির শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। সে রাতেই জম্মু ও কাশ্মীরের বহু রাজনৈতিক নেতা গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু ৩৭০ এবং ৩৫এ এখনও তাঁদের হৃদয়ে রয়েছে।’ কাশ্মীর সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মুফতি। তবে তাঁর দাবি, সে সমাধানের মধ্যে বিশেষ মর্যাদার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ দিন এনসি ও পিডিপি দু-পক্ষই জানায়, সাংবিধানিক অবস্থান পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।
❤ Support Us






