- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
‘ভোটার তালিকার প্রামাণ্য নথিতে আধার কার্ডকেও যুক্ত করুন!’ — বিহার এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
বিহার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক হারে নাম বাদ পড়া নিয়ে চলছে বিস্তর বিতর্ক। তারই মাঝেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড়ো ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া। আদালতের নির্দেশ, আধার কার্ডকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি কিংবা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র হিসেবে মান্যতা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই যেসব ১১টি নথিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কমিশন, আধার হবে সে তালিকার দ্বাদশ প্রামাণ্য নথি। যদিও শীর্ষ আদালত এও জানিইয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ নয়, তবে ব্যক্তি পরিচয় প্রতিষ্ঠায় এটি ব্যবহারযোগ্য।
এদিন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশ্নে আধার গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে কমিশনের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী আদালতে সওয়াল করে জানান, বিহারে ৭.২৪ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯৯.৬ শতাংশ ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন, ফলে এখন আধার অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন নেই। এই আপত্তিকে নস্যাৎ করে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, ‘জাল নথি তো ১১টি প্রামাণ্য কাগজেও হতে পারে। যাচাইয়ের দায়িত্ব ইসির। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। কেউ নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে আধার দাখিল করতে পারবেন না।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আধার কার্ড ব্যবহার করে পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, কিন্তু কোনো নাগরিক যদি তা দেখিয়ে দাবি করেন তিনি ভারতের নাগরিক, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আদালতের এই বক্তব্য আধার আইনের ৯ নম্বর ধারা এবং পুত্তস্বামী মামলায় (২০১৮) সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপির রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিহারের বিরোধী দলগুলির তরফে একাধিক আইনজীবী শুনানিতে দাবি জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার একমাত্র নথি হিসাবে আধারকেই গ্রহণ করা হোক। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানায়, আধার একমাত্র প্রমাণ নয়, বরং অন্যান্য নথির সঙ্গে সমান মর্যাদায় গণ্য হবে। এর মাধ্যমে কোনো ভোটার নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। তবে সোমবারের রায় শুধুমাত্র বিহারের চলছি সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য, সারা দেশে নয়। ভবিষ্যতে এ দৃষ্টান্ত অনুসরণে অন্য রাজ্যগুলিতেও ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ভোটমুখী বিহারে নির্বাচন কমিশশনের বিশেষ সমীক্ষা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। কংগ্রেস ও আরজেডি-সহ ‘মহাগঠবন্ধন’-এর শরিকেরা অভিযোগ তুলেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা মূলত সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের, তাঁদের নাম পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস আরো একধাপ এগিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। নির্বাচন কমিশন যদিও সেসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, তারা আইনি কাঠামোর মধ্যেই কাজ করছে এবং এর ফলে বহু অবৈধ ভোটার, বিশেষত বিদেশি নাগরিক চিহ্নিত হয়েছে। আজ সুপ্রিম আদালতও জানিয়েছে, ‘অবৈধ অভিবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কোনও প্রশ্নই নেই। ভোটাধিকার শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদেরই প্রাপ্য।’ নাম কাটা পড়া এবং সংশোধনের বিষয়ে বিভ্রান্তি মেটাতে আদালত আরো নির্দেশ দিয়েছে, বিহার রাজ্য আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে প্যারালিগাল স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। তাঁরা ভোটারদের এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে দাবি, আপত্তি ও সংশোধন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিহারের এই সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মূলত ‘বিশ্বাসের ঘাটতির ফল।’ সে বিশ্বাস ফেরাতে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই ১২টি রাজনৈতিক দলকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তারা ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের সাহায্যে কী করা হয়েছে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ১ সেপ্টেম্বরের পরেও দাবি-আপত্তি জমা দেওয়া যাবে, তবে তা খসড়া তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরে বিবেচিত হবে।
❤ Support Us







