- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৫, ২০২৩
রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাতদিন রাজভবনের সামনেই বসে থাকব, ঘোষণা অভিষেকের

দাবি আদায় না করতে পেরে দিল্লি থেকে খালি হাতেই ফিরেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ের পরিবর্তে তৃণমূলমনেতা তাঁর দলের অন্যদের কপালে জুটেছে দিল্লি পুলিশের লাঞ্ছনা। এবার তাই রাজভবনে তিনি গিয়েছেন রাজ্যপালের কাছে ১০০ দিনের বকেয়া আদায়ের জন্য। কিন্তু রাজ্যপাল কলকাতায় নেই। তাই রাজ্যপাল কলকাতায় ফিরে দেখা না করা পর্যন্ত রাজভবনের সামনেই বসে থাকবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার এমনটাই ঘোষণা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।ঠিক হয়েছে রাজভবনের সামনে টানা অবস্থানে বসবেন তাঁরা। রাতও কাটাবেন এই ধর্নামঞ্চেই। তবে তৃণমূলের সভায় যোগ দেওয়ার জন্য যাঁরা দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন, তাঁরা চাইলে ফিরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন অভিষেক। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে আবার রাজভবনের সামনে তৃণমূলের এই কর্মসূচি শুরু হবে।
দিল্লি থেকেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে ‘রাজভবন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছিলেন অভিষেক। সেই মতো বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর পরে রবীন্দ্র সদন সংলগ্ন মোহর কুঞ্জ থেকে শুরু হয় মিছিল। অভিষেকের নেতৃত্বে রাজভবন পর্যন্ত সেই মিছিলে চোখে পড়ার মতো ভিড় হয়েছিল। এই মিছিলের ফলে রাজপথে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জনস্রোত নিয়ে রাজভবনে পৌঁছলেও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের দেখা মেলেনি। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আবার দিল্লিতে ফিরে যান। কলকাতায় আসেননি। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, রাজ্যপাল তাঁদের সমাবেশকে ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘‘কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। প্রতিমন্ত্রী পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এখন রাজ্যপালও চলে গেলেন। আমি তো সবার সামনে। বিজেপি নেতারা কেন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন?’’
অভিষেক জানিয়েছেন, সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে তৃণমূলের ২৫ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে যাবেন এবং সেখানকার আধিকারিকের হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন। এই ২৫ জনের মধ্যে ১০ জন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য থাকবেন। বাকি ১৫ জন দলের প্রতিনিধি থাকবেন।
তৃণমূলের এই তরুণ সাংসদ বলেন, ‘‘গায়ের জোরে কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। আমাদের রাজ্যপালের কাছে দু’টি প্রশ্ন রয়েছে। এই ২০ লক্ষ মানুষকে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করিয়েছে কি? যদি করিয়ে থাকে, তবে কোন আইনে তাঁদের পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয়েছে? রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা হলে এই প্রশ্নগুলিই ওঁকে কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে রাখতে অনুরোধ করব।’’
এদিন অভিষেক বলেন, ‘‘আমি যখন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম, রাজ্যপাল কলকাতায় ছিলেন না। কেরলে ছিলেন। ৪ তারিখ ওঁর কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। আমার কাছে যত দূর খবর আছে, আমাদের ঘোষণার আধঘণ্টার মধ্যে রাজ্যপালের তরফে গ্রুপে গ্রুপে মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি কলকাতায় ফিরছেন না। দিল্লি যাচ্ছেন।’’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সময় চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিল তৃণমূল। রাজ্যপাল শিলিগুড়িতে ছিলেন। তিনি ইমেল মারফত জানান, শিলিগুড়ির সার্কিট হাউসে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘শিলিগুড়ি গিয়ে দেখা করতে আমাদের আপত্তি নেই। আমরা ভেবেছিলাম, উনি দু’তিন দিন শিলিগুড়িতে থাকবেন। কিন্তু খবর পেলাম, শিলিগুড়িতে উনি আছেন বিকেল ৪টে পর্যন্ত। অর্থাৎ, মাত্র দু’তিন ঘণ্টার মধ্যে উনি আমাদের যেতে বলেছিলেন, যেটা সম্ভব নয়!”
❤ Support Us