Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৭, ২০২৬

বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ জেল, নির্যাতন, দেশছাড়া— বালুরঘাটে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ জেল, নির্যাতন, দেশছাড়া— বালুরঘাটে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের

শুধু বাংলায় কথা বলেছিলেন। সেই ‘অপরাধেই’ বাংলাদেশি তকমা, জেলবন্দি, শারীরিক নির্যাতন এবং জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ। মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতার শিকার দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণের বাড়িতে বুধবার গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা পুলক চক্রবর্তীকেও।

তপন বিধানসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামে অসিত সরকারের বাড়িতে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। প্রায় এক বছর পর বাড়ি ফেরা ওই দুই শ্রমিকের খোঁজখবর নেন। কীভাবে দিন কাটছে, জেলে থাকার সময় কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সবিস্তারে শোনেন তাঁদের অভিজ্ঞতা। পরে পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘এঁদের অপরাধটা কী? বাংলায় কথা বলা? ৭ মাস ধরে একহাত জায়গায় শুয়ে, এক বাটি ডাল আর রুটি খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। অথচ কোনো অভিযোগ শোনার প্রয়োজনও মনে করেনি প্রশাসন। কোনো কথা না শুনেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় সরাসরি বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে নিশানা করেন অভিষেক। কটাক্ষ করে বলেন, ‘নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষ বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো কি সাংসদের দায়িত্ব নয়? না কি দিল্লির নেতাদের খুশি করাই একমাত্র কাজ?’ তাঁর প্রশ্ন, ‘যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছেন, তাঁদের জন্য কী করেছেন? ফ্যাশন শো-তে হাঁটলেই কি সাংসদের দায়িত্ব পালন হয়?’ অভিষেক আরো বলেন, ‘১১ বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার। কত টাকা এনেছেন জেলার উন্নয়নের জন্য? মানুষের জন্য কী কাজ করেছেন, তার রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুন। শুধু ট্রেনের স্টপেজ তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।’ এই সূত্রেই তিনি সুকান্তকে ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ করেন।

গৌতম বর্মণের স্ত্রী জানান, স্বামীকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি একাধিক বার সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কোনো সাহায্য মেলেনি। এমনকি, অভিযোগ ওঠে জেল থেকে ছাড়ানোর বিনিময়ে দেড় লক্ষ টাকা চাওয়ারও। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের সহযোগিতাতেই অসিত ও গৌতম মুক্তি পান বলে দাবি পরিবারের। সহমর্মী অভিষেক এ পর্যায়ে বলেন, ‘পার্টি, পলিটিক্স পরে হবে। আগে মানুষ। রাজনীতি করতে গিয়ে ১০ কোটি মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।‘ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘মানুষের চোখের জল বিফলে যাবে না। একদিন না একদিন এই অন্যায়ের অভিশাপ লাগবেই।’ এর পাশাপাশি দিল্লিতে গর্ভবতী সোনালি খাতুনের উপর নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। জানান, বাংলায় কথা বলার কারণে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জে পিঠে আঘাত লাগে সোনালির। পরে তাঁকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে আদালতের নির্দেশে ফের দেশে ফেরানো হয় সোনালিকে। অভিষেকের অভিযোগ, ‘যত বলেছে বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকায় আছে, তত বেশি মারধর করা হয়েছে।’

সবশেষে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, ‘বাংলায় জিততে না পেরে ‘এসআইআর’-এর নামে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। গত ২ মাসে, এই কারণে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর দায় কার?’ মহারাষ্ট্র, দিল্লি থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, ‘গুজরাত, বিহার, উত্তরপ্রদেশের জন্য এক নিয়ম, আর বাংলার জন্য আর এক নিয়ম কেন? বাংলার উপর এত রাগ, এত অবজ্ঞা কেন?’ শেষে তিনি আশ্বাস দেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভবিষ্যতেও পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকবে। পরিবারগুলিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। আমরা যোগাযোগে থাকব।’ আগামী দিনে ফের এসে চা খেয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!