- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ৩, ২০২৫
সমবায় সমিতিতে ৩৮ লক্ষ টাকার আর্থিক দুর্নীতি। কৃষক রোষে অভিযুক্ত ম্যানেজার, দিলেন টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি
কালনার একটি সমবায় সমিতিতে ৩৮ লক্ষ টাকারও বেশি আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হল অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সমবায় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। অভিযুক্ত ম্যানেজার সঞ্জিত ঘোষকে দেখেই কার্যত খেপে ওঠেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কয়েকজন কৃষক তার উপর চড়াও হন। ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। কয়েকজন কৃষকই ক্ষুব্ধ কৃষকদের রোষ থেকে ম্যানেজারকে রক্ষা করেন। কালনার কুমারপাড়া আনোখা কৃষি সমবায় সমিতির ঘটনায় অবশ্য দুর্নীতির দায় কবুল করেছেন ম্যানেজার নিজেই। আশ্বাস দিয়েছেন, ‘কৃষকদের খোয়া যাওয়া টাকা ফেরানো হবে।’
ম্যানেজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী ৫/৭ বছরে নিজের মাইনে থেকে ও নিজের কৃষিজমি বন্ধক ও বিক্রি করে কৃষকদের টাকা শোধ করবেন। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন। তবে ম্যানেজারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তাদের প্রশ্ন, মাসে মাত্র কয়েক হাজার টাকা মাইনে আর সামান্য কয়েক কাঠা জমি থেকে তিনি কীভাবে ওই বিপুল টাকা পরিশোধ করতে পারবেন ? বুদ্ধদেব মণ্ডল নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ, ‘কৃষকদের টাকা আত্মসাতের পিছনে ব্যাঙ্কেরও যোগ আছে। আমরা বিষয়টা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নজরে বারবার এনেছি। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হয়নি। ব্যাঙ্কও দায় এড়াচ্ছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, প্রয়োজনে কালনা সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক ঘেরাও করব।’
কালনা ২নং ব্লকের কুমারপাড়া আনোখা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে দু-এক বছর নয়, অডিট হয়নি ৯ বছর ধরে। এছাড়াও একজনের নামের লোনের টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে অন্যজনকে। হিসাবেও প্রচুর গড়মিল। এইসব কারণে গত ৪ বছর ধরে সমবায় থেকে লোন পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে চাষবাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এছাড়াও গত মরশুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলু চাষে ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ফসল বিমার টাকা চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও সেই টাকা হাতে পাননি অনেকেই। উপরন্তু সেই টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি লোন পরিশোধ করা চাষিদের নামে আরও বেশি করে ‘ভুয়ো লোন’ দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সমবায় সমিতির ম্যানেজার সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে।
এর আগে ওই সমবায় ম্যানেজারের কুমারপাড়ার বাড়ি ঘেরাও করে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চাষিরা। উল্লেখ্য যে, আনোখা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে পাঁচশো। এলাকার চাষিরা এই সমবায় সমিতি থেকে একসময় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেলেও ‘ম্যানেজারের অসততার কারণে’ বর্তমানে সেইসব সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। সূর্যদেব পাল নামে এক চাষি বলেন, ‘গতবছর বৃষ্টিতে আলু চাষে ক্ষতি হয়েছিল। ফসল বিমা করা হয়েছিল। সমবায়ে কিস্তি জমা করেছিলাম। ওই অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা ঢুকেছিল। সেই টাকা তুলতে গিয়ে দেখি, অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে গিয়েছে।’ রামপ্রসাদ পাল নামের আরও চাষি জানান, ‘২০২০ সালে লোনের টাকা তুলি। ২০২১-র মার্চে শোধ করে দিই। সেই শংসাপত্র ও পাসবই রয়েছে। তারপরেও আমার নাম করে লোন করিয়ে টাকা তুলে নেয়।’ সমবায় ম্যানেজার সঞ্জিত ঘোষ জানান, ‘প্রকৃত লোন ওই চাষিদের নামে নেই। শোধ করে দিয়েছে। আমার ভুল ত্রুটির জন্য এটা হয়েছে।’ এক কৃষকের নামে লোন তুলে অন্যকে দেওয়া, কৃষকদের নামে ক্ষতিপূরণের টাকা এলে তা কেটে নেওয়ার ঘটনাতেও অভিযুক্ত ওই ম্যানেজার।
❤ Support Us






