- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুন ১০, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জের, আমেরিকায় ঢুকতেই দেওয়া হলো না আফ্রিকার সেরা রেফারিকে
২৬-এর বিশ্বকাপে বিতর্কের কোনো শেষ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার কঠোর অভিবাসন নীতি বিশ্বকাপকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে। ফুটবল মহোৎসব শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হল না আফ্রিকার সেরা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে। ফলে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও সুযোগ হারালেন আরতান। আর সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কারণেই। আফ্রিকার এই সেরা রেফারিকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইস্তাম্বুলের ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আরতান কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। প্রাথমিক বিলম্বের পর নাইরোবিতে অবস্থিত সোমালি দূতাবাস তাঁকে ভিসা পেতে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত আরতানকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাটি বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফিফা বা সোমালি ফুটবল ফেডারেশন এ ব্যাপারে এখনো সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু এ পদক্ষেপের অর্থ হলো আরতান আর বিশ্বকাপ খেলাতে পারবেন না। তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া মার্কিন মুলুকে ভ্রমণ সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান সমস্যার তালিকার একটা অংশ, যা এর আগেও ইরানসহ অন্যান্য দেশের কঠোর মার্কিন যাচাই–বাছাইয়ের সম্মুখীন ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেছে।
মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ আফ্রিকার সেরা রেফারির পুরস্কার পাওয়া আরতানকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি। তবে, পরিস্থিতিটি রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কারণ অন্যান্য কিছু দেশের সঙ্গে সোমালিয়াও কঠোর মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন। বর্তমানে, বেশিরভাগ সোমালি নাগরিক মার্কিন ভিসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত এবং নির্দিষ্ট কূটনৈতিক কাজ বা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত না থাকলে খুব কম ক্ষেত্রেই এর ব্যতিক্রম করা হয়।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরতানের না থাকাটা নিঃসন্দেহে বিরাট ক্ষতি। ২০১৮ সালে ফিফা রেফারির স্বীকৃতি পান আরতান। আফ্রিকান ফুটবলের সেরা রেফারি হিসেবে বিবেচিত হন। ২০২৫ সালে সিএএফ চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রধান ম্যাচগুলো পরিচালনা করেছেন। অসাধারণ পারফরমেন্সের জন্য মরক্কোতে অনুষ্ঠিত সিএএফ অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের ‘আফ্রিকার সেরা রেফারি’ পুরস্কার পান, যা আরতানকে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী ৯ সদস্যের অভিজাত রেফারি দলের জন্য একজন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে, কেবল আরতানই সীমান্ত সমস্যায় পড়েননি। বিশ্বকাপে তাঁর এই বহিষ্কার টুর্নামেন্টের আগে আরও প্রকট ভিসা সংকটকে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ সংস্থা ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে। কারণ বিপুল সংখ্যক আফ্রিকান ও ইরানি ক্রীড়া সাংবাদিকের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এমনকি ইরানের আনুষ্ঠানিক দলের ফটোগ্রাফারকেও দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিশ্বমানের রেফারি ও সাংবাদিকদের সীমান্তে আটকে দেওয়ায়, বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চেতনা নষ্ট হওয়ার আগেই, এই ভ্রমণ সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য ফিফার ওপর বড়ো ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
❤ Support Us








