Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ২, ২০২৬

পাহাড়ি জনপদে আনন্দের স্রোত! স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথম রাস্তা পেল হিমাচলের গ্রাম, চলল বাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাহাড়ি জনপদে আনন্দের স্রোত! স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথম রাস্তা পেল হিমাচলের গ্রাম, চলল বাস

ভারত আজ না কি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি! দেশের জিডিপি বছরে কোটি কোটি ডলারে আকাশচুম্বী, নগরী থেকে নগরী, মহাসড়ক থেকে মহাসড়ক নির্মাণ চলছে। ‘ডিজিটাল ভারত’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘বিকাশ’ আর ‘উন্নয়ন’—সরকারি প্রচারে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আমরা আজ মহাকাশে, চাঁদ-মঙ্গল পৌঁছে যাচ্ছি, নদীর বাঁধ থেকে এক্সপ্রেসওয়ে, সেতু, সুড়ঙ্গ সবই তৈরি হচ্ছে, তখন এক ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম স্বাধীনতার ৭৮ বছর ধরে অপেক্ষা করছিল একটি সাধারণ, পাকা রাস্তার জন্য। হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি জেলার চাওয়াসি এলাকার টুমান গ্রাম সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল সোমবার। শাকেল্ড থেকে টুমান পর্যন্ত ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে।

রাস্তার কাজ শেষ হতেই সেখানে আয়োজন করা হয় পরীক্ষামূলক বাস যাত্রার। হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (এইচআরটিসি)-এর বাসটি চালানো হয় জেলাশাসক গৌরব মহাজনের উপস্থিতিতে। গ্রামের মানুষজন সকাল থেকেই রাস্তার ধারে জমায়েত হয়েছিলেন। শৈল্পিকভাবে সাজানো পথ, হাতে ফুলের মালা, থালায় মিষ্টি, চোখে আশা ও মুখে উচ্ছ্বাস— এ যেন এক শুভসংঘটিত দৃশ্য। বাসের সাথে তাল মিলিয়ে দৌড়ে যান গ্রামবাসীরাও। বহু দশক ধরে যে আশা বুকে লালন করেছিলেন তাঁরা, তা পূরণ হতে দেখে চোখে জল আসে কারো কারো। বাসের উপর পুষ্পবর্ষণ করা হয়, হাতে মালা পরানো হয়, আর একসাথে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে হয়ে পুরো গ্রাম।

গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসন, পূর্ত দফতর, পরিবহণ নিগম সহ সকল সংশ্লিষ্ট দফতরকে ধন্যবাদ জানান। তবে, একই সঙ্গে তাঁরা আশ্বাস চেয়েছেন যে, এই বাস পরিষেবা শুধু পরীক্ষামূলক নয়, স্থায়ীভাবে চালু হবে। এদিন, রাস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কারসগের কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সভাপতি পৃথ্বী সিংহ নেগি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিক মহেশ রাজসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়— এলাকাবাসীর চোখেমুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, হাতে ফুল, করতালি আর পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আনন্দ। এই ভিডিও দেখে অনেকেই স্থির হয়ে যান, বাকরুদ্ধ হন। এমন একটি ছোট গ্রামে গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা পৌঁছাতে এত দীর্ঘ সময় কেন লেগেছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বহুল প্রতীক্ষিত এই রাস্তাটি শুধুই যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি শিক্ষার, চিকিৎসার, জীবিকার নতুন দরজা খুলে দবে। শৈশব থেকে বৃদ্ধ, সকলের জীবনে রীতিমতো নতুন আলো ছড়িয়েছে ছোট্ট পথ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!