- দে । শ
- জানুয়ারি ১০, ২০২৬
জোটে জট, ফুরফুরায় হুমায়ুন সঙ্গ এড়ালেন নওশাদ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে নিজের দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছেন হুমায়ুন কবীর। ভোটের ময়দানে শক্তি বাড়াতে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার তিনি পৌঁছেছিলেন ফুরফুরা শরিফে। লক্ষ্য ছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সঙ্গে বোঝাপড়া পাকা করা। কিন্তু সেই সফর শেষ পর্যন্ত হতাশাতেই পরিণত হল।
ফুরফুরা শরিফে গিয়ে হুমায়ুন কবীর পীরজাদা সাহেরি সিদ্দিকি ও ইব্রাহিম সিদ্দিকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও আইএসএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি কিংবা ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। নওশাদের অনুপস্থিতিতেই মূলত ভেস্তে যায় জোট আলোচনা।
সূত্রের খবর, আইএসএফ স্পষ্ট জানিয়েছে—হুমায়ুন কবীরের দল সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ রূপরেখা গ্রহণ না করা পর্যন্ত জোটের কোনও সম্ভাবনাই নেই। এই অবস্থানে অনড় থাকায় ফুরফুরা সফরে ‘শূন্য হাতেই’ ফিরতে হয়েছে হুমায়ুনকে।
যদিও জোট আলোচনা সফল না হলেও ফুরফুরা শরিফে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক হুঙ্কার দিতে পিছপা হননি তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, “বিজেপিকে হারাতে এবং তৃণমূলকে তাড়াতে সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে।” তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে জনতা উন্নয়ন পার্টির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। পাশাপাশি জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীনও হুমায়ুন কবীর বারবার প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করে অস্বস্তি বাড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, যদিও তিনি বিধায়ক পদ ছাড়েননি। শাসক শিবিরের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এসে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবীরের ফুরফুরা সফর রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া এবং জোট সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়ল, তা বলাই যায়।
❤ Support Us






