- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২১, ২০২৫
নির্বাচন কমিশনে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির সমালোচনা, ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা’ কটাক্ষ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির উত্তাপ তুঙ্গে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন যে, রাজ্যে ‘এসআইআর’-এর চলমান প্রক্রিয়া সম্পুর্ণ ‘অপরিকল্পিত। বর্তমানে তা ‘বিপজ্জনক ও অরাজক’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এ চিঠি প্রকাশের একদিন পরে, শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একথা বললেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে’ ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ভারতে অনুপ্রবেশ রোধ করা কেবল দেশের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এই উদ্যোগকে ব্যাহত করে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে। তারা ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের কাজের বিরোধী।’ গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতার এমন অভিযোগে তোলপাড় দেশ। যদিও নিজের বক্তব্যে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেননি তিনি।
भारत में घुसपैठ को रोकना न केवल देश की सुरक्षा के लिए जरूरी है, बल्कि देश की लोकतांत्रिक व्यवस्था को प्रदूषित होने से बचाने के लिए भी घुसपैठ को रोकना जरूरी है।
मगर दुर्भाग्य की बात है, कुछ राजनीतिक दल इन घुसपैठियों को बचाने के लिए यात्रा लेकर निकले हैं, और चुनाव आयोग द्वारा…
— Office of Amit Shah (@AmitShahOffice) November 21, 2025
নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএলও এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর ‘এসআইআর’-এর কার্যক্রম জোরপূর্বক চাপ দেওয়া হচ্ছে, অথচ মৌলিক কোনো প্রস্তুতি নেই। চিঠিতে উল্লেখ, অনেক বিএলও শিক্ষক, ফ্রন্টলাইন কর্মী বা সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি দরজা-দরজা ঘুরে তথ্য সংগ্রহ ও অনলাইন ফর্ম পূরণে নিযুক্ত। সার্ভার ফেইলিউর, তথ্য মিলের সমস্যা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব তাদের কাজকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটার তথ্য যথাযথভাবে আপলোড করা সম্ভব হবে না। চরম চাপ ও শাস্তির ভয়ে অনেকেই ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন, যা সত্যিকারের ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নষ্ট করতে পারে।’ চিঠিতে মমতা কমিশনকে অনুরোধ করেছেন অবিলম্বে ‘এসআইআর’-এর কাজ বন্ধ করার জন্য।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব মমতার সমস্ত অভিযোগকে ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে খারিজ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘কোনো হুমকি, নাটক বা মিথ্যা ‘এসআইআর’-এর কাজ থামাতে পারবে না। যদি মুখ্যমন্ত্রী আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অস্বস্তি বোধ করেন, তাঁর স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো উচিত বা পদত্যাগ করা উচিত।’ একধাপ এগিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির পরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার স্বার্থে রাজ্যজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করছেন। তবে এটি নতুন কোনো দাবি নয়, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু বারবার মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসক দলের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বৃহস্পতিবার কমিশনকে পাঠানো দীর্ঘ চিঠিতে তিনি বলেন, ভোটার তালিকার সংশোধন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সে কারণে, ২০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি তিনি ‘ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল সরকার বছরের পর বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।’ ‘এসআইআর’ কার্যক্রম শুরু হতেই এ প্রক্রিয়ায় বাধা পড়ছে বলে তৃণমূলের সমস্যা হচ্ছে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা। তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, ‘বিএলও- দের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোনোরকম উদ্বিগ্ন নন। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত বুথ লেভেল অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং কমিশনের নির্দেশনা মানতে নিরুৎসাহিত করছেন। এমনকি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অযাচিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পরিবেশ উত্তপ্ত করছেন।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে শুভেন্দু ‘গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
❤ Support Us







