- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২৫, ২০২৫
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপিতে সমবায়ের অবদান ৩ গুণ বাড়বে: নতুন সমবায় নীতির ঘোষণা মঞ্চে বললেন অমিত শাহ
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপিতে সমবায় খাতের অবদান ৩ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিল কেন্দ্র। প্রতিটি গ্রামে অন্তত ১টি করে সমবায় গঠনের কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ‘ন্যাশনাল কো-অপারেশন পলিসি, ২০২৫’-এর সূচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের ৫০ কোটি মানুষকে সমবায় পরিসরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ নীতি শুধু গ্রামীণ ভারতকে নয়, দেশের অর্থনীতিকেও নতুন গতিপথ দেখাবে।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার জাতীয় সহযোগিতা নীতির প্রণয়ন করল কেন্দ্র। ২০০২ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এ নীতির সূচনা করেছিল, বর্তমান এনডিএ সরকারের আমলে তা সংস্কার করা হলো। অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘যে সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়, সেই সরকারই সমবায়ের মতো জনমুখী মডেলকে গুরুত্ব দিতে পারে।’ নতুন নীতিতে শুধু কৃষি বা পশুপালন নয়, নজর দেওয়া হয়েছে পর্যটন, যানবাহন পরিষেবা, বীমা ও সবুজ শক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণা, চলতি বছরের মধ্যেই গড়ে তোলা হবে একটি ‘মাল্টি-পারপাস ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ’। পাশাপাশি, দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বীমা সমবায়ের কাজও।
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পঞ্চায়েতে ১টি করে প্রাথমিক সমবায় ইউনিট গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে দেশে ৮.৩ লক্ষ সমবায় রয়েছে। সেখান থেকে সদস্যসংখ্যা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘এই নীতির মাধ্যমে আমরা এমন এক কাঠামো তৈরি করতে চাই, যা প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, পেশাদার এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো বিষয়ে সক্ষম হবে। নতুন সমবায় নীতি ৬টি কৌশলগত স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিতহয়েছে। যেমন, ভিত্তি মজবুতকরণ, প্রাণশক্তি বৃদ্ধি, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি, অন্তর্ভুক্তি ও নাগালের বিস্তার, নতুন খাতে প্রবেশ আর যুব প্রজন্মকে তৈরি করা। শাহ জানিয়েছেন, সমবায় ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ইতিমধ্যে ৮৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫৮টিতে কাজ শেষ, ৩টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত। ২টি ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলিতে ধারাবাহিক কাজ দরকার।
নতুন সমবায় নীতি তৈরির আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও নাবার্ড-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছিল ৪৮ সদস্যের একটি কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ প্রভু। প্রায় ৭৫০টি প্রস্তাব খতিয়ে দেখে তৈরি হয় নীতির চূড়ান্ত খসড়া। জাতীয় নীতির সুষ্ঠু রূপায়ণের জন্য দুটি বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ১০ বছর অন্তর নীতির পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যায়। রাজ্যগুলিকে কড়া বার্তা দিয়ে শাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত এই নীতি কার্যকর করা দরকার। প্রত্যেক রাজ্যই এ নীতির প্রতি সম্মতি জানিয়েছে।’ স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রীর দাবি, স্বাধীনতার পর ৭৫ বছরে কেউ সমবায় মন্ত্রকের কথা ভাবেনি। মোদি সরকার ক্ষমতায় এসেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন, বিদ্যুৎ, শৌচালয় ও ওষুধ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এখন আমরা আরো এগোতে চাই, কিন্তু মূলধনের অভাবে বহুকিছু থমকে যাচ্ছে বারবার। আগামীদিনে সমবায় ব্যবস্থাই দেশের বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।’ অমিত শাহ আরো বলেছেন, সমবায় খাত আজ কর্পোরেট খাতের প্রায় সমকক্ষ অবস্থানে রয়েছে। অগ্রাধিকার, করছাড় ও উন্নয়ন তহবিলের দিক থেকেও সমান মর্যাদা পেয়েছে। তাঁর আশা, সমবায় খাত দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। ভারত যে শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আসনে বসবে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশের স্বীকৃতি পাবে, তাও জানিয়ে দেন তিনি। এদিন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুজ্জর, মুরলিধর মোহল-সহ সমবায় মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকেরা।
❤ Support Us







