- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২১, ২০২৫
আইআইটি খড়গপুরে ফের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু। তদন্ত শুরু পুলিশের
ভারতের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান খড়গপুর আইআইটি ফের পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। ছাত্র হোস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার ২২ বছরের পড়ুয়ার দেহ। জানা যাচ্ছে, রবিবার তাঁকে হোস্টেল কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের অনুমান, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চতুর্থ বর্ষের নিহত ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। চলতি বছরে আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে দ্বিতীয়বার রহস্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
পুলিশসূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের নাম অনিকেত ওয়ালকার। তিনি ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং ও নভেল আর্কিটেকচারের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগদীশচন্দ্র বসু ভবন হোস্টেলের সি ব্লকের ২১৪ নাম্বার ঘরে। মহারাষ্ট্রের গন্ডিয়া জেলার বাসিন্দা অনিকেত পড়াশোনার জন্য পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। প্রথমে তাঁর সহপাঠীরা তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু দীর্ঘ সময় নিহত পড়ুয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে, তাঁরা ডাকাডাকি করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন অনিকেত। তৎক্ষণাৎ ক্যাম্পাস সিকিউরিটি ও পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ।
এই ঘটনায় অনিকেতের সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রাথমিক অনুমান, ওই ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। মৃতদেহ উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ময়না তদন্তের জন্য পাঠান হয়েছে। ময়াতদন্তের রিপোর্ট পেলে, বোঝা যাবে পড়ুয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা না কি এর পিছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে। এই মুহূর্তে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ এই মর্মে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হোস্টেলের আবাসিক ও ক্যাম্পাসের অনান্য পড়ুয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে ই-মেলের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সব পড়ুয়াকে,ওই ছাত্রের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। ই-মেল বার্তায় লেখা ছিল, ‘আমরা আমাদের প্রিয় ছাত্রের অকাল প্রয়াণে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে যে কোনো ছাত্র কাউন্সেলিং বা অনান্য সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে এই পরিষেবাগুলি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
অনিকেত ওয়ালকারের এই মৃত্যুর ঘটনা ফের একবার ভারতের অন্যতম সেরা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে খড়গপুর আইআইটিতে কসবার বাসিন্দা এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল। ছুটিতে তাঁর বাবা মা তাঁকে দেখতে এসে জানতে পেরেছিলেন তাঁদের ছেলে আর বেঁচে নেই। গত ২ বছরে এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছিল। জুন মাসে কেরালার এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রকে ক্যাম্পাসে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, তেলেঙ্গানার এক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আত্মহত্যা করেন।
শিক্ষামহল আর ছাত্রছাত্রীদের মতে, সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে এ ধরণের ঘটনা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। পড়াশোনার চাপ, র্যাগিং ও ব্যক্তিগত নানান কারণে বহু ছাত্রছাত্রী গভীর অবসাদে ভুগছেন। চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। পড়ুয়া মৃত্যু আটকাতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও সহানুভূতিমুলক ব্যবস্থাপনা। প্রয়জন দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো আর হোস্টেলগুলিতে নিয়মিত মনিটরিং।
❤ Support Us







