Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১০, ২০২৫

গুজরাটে কাজ করতে গিয়ে ফের নিখোঁজ বাংলার আরেক কিশোর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গুজরাটে কাজ করতে গিয়ে ফের নিখোঁজ বাংলার আরেক কিশোর

বিজেপি শাসিত গুজরাটের রাজকোটে কাজ করতে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার কালনার উপলতি গ্রামের নাবালক গণেশ দুর্লভ। শরীরজোড়া আঘাত আর পোড়ার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে গণেশ বাড়ি ফিরেছে। কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণেশের শারীরিক অবস্থার ক্রমশই উন্নতি হচ্ছে। গণেশ ফিরলেও আজও ফেরেনি শুভম হাঁসদা। কালনারই বাঘনাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জনজাতি অধ্যুষিত জঙ্গলপাড়ার বছর চোদ্দোর কিশোর শুভম রাজকোটেই গহনার দোকানে কাজ করতে গিয়েছিল। ৭ বছর আগে। আজও তার কোনও খবর নেই। ছেলের কথা তুলতেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন পূর্ণিমা হাঁসদা। ঘর থেকে ছেলের একখানা ছবি বের করে এনে উঠোনে দাঁড়ান। হাহাকার করেন, ‘জানি না, ছেলেটা আদৌ বেঁচে আছে কিনা!’ গণেশের কথা শুনে ছেলেকে ফিরে পেতে কালনা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন পূর্ণিমা। কালনার এসডিপিও রাকেশ চৌধুরি বললেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। গণেশের অত্যাচারীদের চিহ্নিত করতে ও শুভমের খোঁজ পেতে কালনা পুলিশ রঅজকোট গিয়েছে।’

জানা গেল, শিকারপুরেরই একজনের মাধ্যমে শুভম রাজকোটে কাজে যায়। প্রথম বছর মালিকের ফোন থেকে প্রায়ই ফোন করত। তারপর হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ। কীভাবে যোগাযোগ হবে সেই দুশ্চিন্তাই পাক খাচ্ছে পরিবারজুড়ে। শুভমের দিদি সাগরিকা বলছিল, ‘ভাইয়ের খবর না পাওয়ায় মা-বাবার রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। আদৌ ফিরবে কিনা বুঝতে পারছি না।’ পূর্ণিমার পরিবারের অমাবস্যা কবে কাটবে, তার উত্তর আজও মিলছে না। পিঠে রডের আঘাতের ব্যথা এখনও মাঝে মাঝে চাগাড় দেয় শুভমের পড়শি বছর কুড়ির যুবক স্বরূপ হাঁসদার। স্বরূপও বছর চারেক আগে কাজে গিয়েছিল রাজকোটে। তার অভিজ্ঞতা, কাজের সময় পান থেকে চুণ খসলেই নির্মম প্রহার। কাঁদলে বা বাড়ি ফেরার কথা তুললে মারের বহর আরও বাড়ত। মালিক কোথাও গেলে ঘরে তালা বন্ধ করে রেখে যেত। মাস ছয়েক থাকার পর ফাঁক বুঝে পালিয়ে এসেছে স্বরূপ। তার কথায়, ‘এখন বুঝছি না পালিয়ে এলে আমারও গণেশ বা শুভমের দশা হত।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!