- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৫
আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’, চূড়ান্ত সতর্কতা অন্ধ্র–ওড়িশায় । প্রভাব বাংলাতেও !
বঙ্গোপসাগরের উপর জেগে উঠেছে অশনি সংকেত । গভীর নিম্নচাপ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে সোমবার ভোরেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মান্থা’। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি কাকিনাড়ার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় । বর্তমানে এটি পশ্চিম–উত্তর–পশ্চিম দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়টি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৬২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, চেন্নাই থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে । ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বাধিক গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর, উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা ।
অন্ধ্রপ্রদেশের নয়টি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন । কাকিনাড়া, কোনা সীমা, পশ্চিম গোদাবরী, এলুরু, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপাতলা, প্রকাশম ও এসপিএসআর নেলোর — এই জেলাগুলির স্কুল সোমবার থেকে ২ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আর যারা ইতিমধ্যেই মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে শুরু হয়েছে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ । বহু নিম্নাঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে । ওড়িশা প্রশাসনও সতর্ক। রাজ্যের ৩০টি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে । বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলার জোর প্রস্তুতি চলছে । আট জেলায় নামানো হয়েছে ১২৮টি বিপর্যয় মোকাবিলা দল । ওড়িশার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, ‘যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত । স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষজনকে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় ।’ তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও আবহাওয়া দফতর কমলা সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে চেন্নাই ও সংলগ্ন এলাকায়। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে সেখানকার প্রশাসনও ।
ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও । সোমবার সকাল পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলেও রাতের দিকে মেঘলা আকাশ এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । মঙ্গলবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে আরও প্রকট। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া। বুধবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে । বৃহস্পতিবারের মধ্যে বৃষ্টির পরিধি আরও বিস্তৃত হবে — পুরুলিয়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে, দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস । শনিবার থেকে বৃষ্টি ক্রমশ কমবে, তবে বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে কয়েকটি জেলায় । কলকাতায় সোমবারের আকাশ থাকবে মূলত পরিষ্কার, তবে রাতে আকাশ আংশিক মেঘলা হতে পারে । মঙ্গলবার ও বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে শহর জুড়ে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে । সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ৩২.৫ ডিগ্রি। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি । ছট পুজোর দিন মঙ্গলবার ভোরে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে, তবে জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে ।
আবহাওয়া দফতর কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে যেহেতু ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল, তাই পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল দ্রুত তুলে নিতে হবে। বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষত শহুরে অঞ্চলের আন্ডারপাসগুলিতে । পাহাড়ি জেলাগুলিতে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে ভারী বৃষ্টির ফলে। উত্তরবঙ্গেও দেখা মিলবে ‘মান্থা’-র প্রভাবের। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাগুলোতে হালকায় থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে । বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর । শনিবারের পর আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে । অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র প্রভাবে পূর্ব ভারতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে । ইতিমধ্যেই সমুদ্রের ঢেউ উঁচু হয়ে উঠছে, বাতাসে আর্দ্রতা ও অস্থিরতা বাড়ছে । প্রকৃতি যেন নতুন করে লিখছে দুর্যোগের অভিধান, তবে এবার প্রস্তুতিও আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপূর্ণ ও সচেতন ।
❤ Support Us







