- দে । শ
- আগস্ট ২৯, ২০২৩
অসম বন্যা: রাজ্যের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, ১৭টি জেলায় ১.৯১ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
অসমের বন্যা আরও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ১৭টি জেলার প্রায় ১.৯১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ -র দেওয়া অনুসারে, লখিমপুর জেলায় প্রায় ৪৭ হাজার ৪০০ জন, ধেমাজি জেলায় ৪১ হাজার জন, গোলাঘাট জেলায় ২৮ হাজার জন, শিবসাগর জেলায় ২১ হাজার ৫০০ জন এবং সোনিতপুর জেলায় ১৭হাজার ৮০০ জন মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘন্টায়, শিবসাগর জেলায় বন্যার জলে ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে, এর ফলে এই বছর অসম রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৫-এ দাঁড়িয়েছে। অসম এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর, ব্রহ্মপুত্র নদ এবং ব্রহ্মপুত্রের উপনদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রাজ্যের অনেক জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রম করে জল বইছে। অসমে অবিরাম বৃষ্টির কারণে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি আবার ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, ছয়টি জেলায় ৫৩ হাজার মানুষের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ব্রহ্মপুত্র নদের জলস্তর ডিব্রুগড়, জোড়হাট জেলার নেওয়ামাটিঘাট, সোনিতপুর জেলার তেজপুর, ধুবরিতে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুবানসিরি নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। লখিমপুর জেলার বাদাটিঘাটে, শিবসাগরের দিখৌ ও দিসাং নদী, কামরূপ জেলার এনএইচ রোড ক্রসিং-এ পুথিমারি নদী, নলবাড়ি জেলার এনএইচ রোড ক্রসিং-এ পাগলাদিয়া নদী এবং বারপেটা জেলার রোড ব্রিজ বেকি নদী প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে আরও কয়েকটি নদীর জলস্তরের উচ্চতা বাড়ছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ -এর বন্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৪২টি রাজস্ব সার্কেলের অধীনে মোট ৫২২টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন চারটি বন্যা কবলিত জেলায় দুটি ত্রাণ শিবির ও ৪৫টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বন্যায় ১.৩০ লাখেরও বেশি গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসডিআরএফ, স্থানীয় প্রশাসন বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে চালাচ্ছে । বন্যার জলে ১৭টি জেলার ৮০৮৬ .৪০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বিশ্বনাথ জেলায় বন্যার জলে তলিয়ে গেছে ৩৮টি গ্রাম ও ৩৬৩.৫০ হেক্টর ফসলি জমি। অসমের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, ১.৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ১৫ জনে মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়।
বন্যার জল বিশ্বনাথ, দারাঙ্গা এবং উদালগুড়ি জেলার চারটি বাঁধ ভেঙ্গে ১৮টি রাস্তা, দুটি সেতু, বেশ কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সুরক্ষা বাঁধ, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং স্কুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
❤ Support Us






