Advertisement
  • দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

চারণভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি, উত্তাল অসমের কার্বি আংলং । নিষিদ্ধ জমায়েত, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চারণভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি, উত্তাল অসমের কার্বি আংলং । নিষিদ্ধ জমায়েত, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা

আদিবাসীদের সংরক্ষিত জমি দখলের অভিযোগে ‌অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরোনিতে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষে শীর্ষকর্তাসহ ৪৮ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। অসংখ্য দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলার সময় পুলিশ হাজির হলে দুই গোষ্ঠীর লোকেরা শীর্ষকর্তাসহ পুলিশের দলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। পরবর্তীকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৬৩ ধারাও জারি করা হয়েছে।

আদিবাসী অঞ্চলের পেশাদার চারণভূমি সংরক্ষণ (পিজিআর) এবং গ্রামীন চারণভূমি সংরক্ষণ (ভিজিআর) জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলনকারীরা খেরোনি বাজার এলাকায় জড়ো হন। উভয় পক্ষই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পুলিশ প্রথমে দুই গোষ্ঠীকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে যখন দুটি গোষ্ঠী একে অপরের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী, পুলিশ কর্মী এবং সংবাদমাধ্যমকর্মী আহত হন।

পিজিআর এবং ভিজিআর জমি থেকে বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। যদিও কেএএসি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছিল। তবুও আদালত অবমাননার কথা উল্লেখ করে গুয়াহাটি হাইকোর্টে একটা আবেদন প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে দিয়েছে। বিরোধের মূল কারণ কার্বি সম্প্রদায়ের দাবি। তারা চায়, তাদের পৈতৃক জমি এলাকার অন্যান্য অ–উপজাতি সম্প্রদায়ের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকুক।

বিক্ষোভকারীরা কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল (কেএএসি)–র প্রধান নির্বাহী সদস্যর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন সোমবার রাতে। পশ্চিম কারবি আংলং জেলার খেরোনির কাছে দংকামুকামে এই ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়তে শুরু করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পুলিশ শূন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন বিক্ষোভকারী এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। এরপর এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়।

সোমবার সকালে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বিশাল জনতা রাস্তা অবরোধ করে। ডংকামুকামের দিকে মিছিল করে এবং কেএএসি–র প্রধান নির্বাহী তুলিরাম রংহাংয়ের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডংকামুকামের কাছে একটা বস্তি এলাকায় জনতা বেশ কয়েকটি বাড়ি, একটা স্কুল বাস এবং দোকানে ভাঙচুর চালায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নতুন করে হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দুটি দলের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কার্বি আংলংয়ের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌সিনিয়র মন্ত্রী রণোজ পেগু জেলায় উপস্থিত রয়েছেন। আমার বিশ্বাস বিষয়টি শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী আন্দোলনকারীরা গত ১৫ দিন ধরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদের দাবিতে অনশন ধর্মঘট করছিলেন।‌ মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগুর সঙ্গে আলোচনার পর উপজাতি অঞ্চল থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা অনশন প্রত্যাহার করে নেন। পেগু বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন যে এই ব্যাপারে শীঘ্রই আলোচনায় বসা হবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!