Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ২১, ২০২৪

শিশু অপহরণের অভিযোগে গণপিটুনি। গুজব রুখতে তৎপর প্রশাসন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিশু অপহরণের অভিযোগে গণপিটুনি। গুজব রুখতে তৎপর প্রশাসন

এলাকায় নাকি দিন দুপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছেলেধরার দল। গত কয়েকদিন এই গুজবে এখন থরহরি কম্প উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত, মধ্যমগ্রাম সহ আশপাশের এলাকায়। গুজবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। কয়েকদিন আগে ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলা এবং তার সঙ্গীকে মারধর করার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত এলাকা। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরও করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সম্প্রতি বারাসত কাজিপাড়ায় ১১ বছরের বালককে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনার পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের হস্তক্ষেপে তখনকার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু বারাসত জুড়ে গুজব ছড়ানো শুরু হয় ছেলে চুরির। সেই গুজবের জেরেই গত বুধবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারাসত। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে বারাসাত কামাখ্যা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অটোয় উঠতে যাচ্ছিলেন এক মহিলা। সঙ্গে ছিলেন আরও এক জন। সেই সময় আচমকাই তাঁকে ছেলেধরার তকমা দিয়ে মারধর শুরু করে জনতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় জমে যায়। সকলেই ‘ছেলেধরা’কে দেখতে চান। গণপিটুনির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। কিন্তু উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরেই পাল্টা চড়াও হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পতিষ্কা ঝাড়খাড়িয় সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান ‘ এই ঘচনার কোনও ভিত্তিই নেই। সম্পূর্ণ সন্দেহের বশে এই সব করা হচ্ছে। কিছু লোক সমাজমাধ্যমে মিথ্যে খবর ভাইরাল করছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ করছে।’‌

এদিন বারাসাত পুলিশ জেলার শাসন থানা কমিটির উদ্যোগে ছেলেধরা বিষয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয় থানা পার্শ্বস্থ স্বস্তি ভিলেজে। উপস্থিত ছিলেন শাসন থানার আইসি মহম্মদ ফিরোজ আলি, জেলা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারহাদ, মনিরুল ইসলাম মনি,মান্নান আলি,আসের আলি মল্লিক, রাখি মন্ডল, উৎপল পুরকাইত প্রমুখ। উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা বলেন, আইন কেউ হাতে তুলে নেবেন না প্রশাসন তার মতোই কাজ করছে। কিছু স্বার্থান্বেষী লোক গুজব ছড়াচ্ছে যা কঠোর হাতে দমন করছে প্রশাসনিক কর্তারা। জেলা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফারহাদ বলেন, ’‌গুজব ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এধরণের গুজব কানে এলেই পুলিশ , প্রশাসনকে জানান। কেই আইন হাতে নেবেন না।’‌ তিনি বলেন, ‘‌রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জির উন্নয়নকে কালিমালিপ্ত করা এবং কিছু সমাজবিরোধী বিভাজন সৃষ্টি করতে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!