- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ৭, ২০২৬
র্যাপ থেকে রাজনীতি! প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত বলেন্দ্রর, প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি প্রায় নিশ্চিত
নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছেন তরুণ র্যাপশিল্পী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বলেন্দ্র শাহ। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তিনি এবং তাঁর দল বিপুল জনসমর্থন পেয়ে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহের নাম প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের লাগামছাড়া দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং দেশজুড়ে বাড়তে থাকা বেকারত্বের বিরুদ্ধে নেপালের তরুণ সমাজ তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হওয়া জেন জ়ি প্রজন্মের সেই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এই গণআন্দোলনের জেরে পতন ঘটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকারের।
গণঅভ্যুত্থানের প্রায় সাত মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দেশের পুরনো দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি নেপাল কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট দলগুলোকে পিছনে ফেলে দ্রুত উত্থান ঘটায় নবীন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রিয় স্বতন্ত্র পার্টি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালে গঠিত এই দলটির কাছেই বড় পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলিকে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভস অফ নেপাল-এর ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১১৪টিতেই এগিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। ফলে শুধু সরকার গঠনই নয়, বিরোধী দল হিসেবেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারছে না ওলির কমিউনিস্ট পার্টি। নেপালি কংগ্রেস-এর অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল; দুই দলের মিলিত আসনসংখ্যা কুড়ির কোঠায় সীমাবদ্ধ।
২০০৭ সালে মাওবাদী আন্দোলনের ফলে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং রাজা জ্ঞানেন্দ্র সাহাকে নারায়ণহিতি প্রাসাদ ছাড়তে হয়। এরপর থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব একটা দেখা যায়নি। গত ১৮ বছরে মোট ১৪টি সরকার পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি। এবার বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো জোট নির্ভরতা ছেড়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে নেপালের এই নির্বাচনের দিকে নজর রেখেছিল ভারতও। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, নেপালের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে ভারত আশাবাদী।
এই নির্বাচনে ঝাপা–৫ আসন থেকে চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের শক্ত ঘাঁটিতেই তাঁকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের জেন জি আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার দাবি উঠলেও নির্বাচনে জয় না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষমতায় বসতে রাজি হননি কর্নাটকের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা বলেন্দ্র। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি রাষ্ট্রিয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দেন এবং তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিপুল জনসমর্থন তাঁর দিকে ঝুঁকছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেও র্যাপ গানের মাধ্যমেই নেপালের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বলেন্দ্র। তাঁর ট্রেডমার্ক চৌকো সানগ্লাস, মাথায় নেপালি টুপি এবং কালো স্যুট—এই স্বতন্ত্র উপস্থিতির সঙ্গে র্যাপ গানে তিনি তুলে ধরতেন তরুণ প্রজন্মের হতাশা, ক্ষোভ এবং বঞ্চনার কথা। তবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা বিতর্কমুক্ত নয়। কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার পর ফুটপাথের বহু দোকান উচ্ছেদ এবং বুলডোজার চালিয়ে অসংখ্য বাড়ি ও দোকান ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া নিজেকে এডলফ হিটলার-এর মতো জনপ্রিয় বলে মন্তব্য করা এবং অতীতে ভারতবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। মাত্র ১৮ বছরের মধ্যে নেপালের গণতন্ত্র এক চরম বামপন্থী রাজনৈতিক পর্ব থেকে সরে এসে এবার এক অতি দক্ষিণপন্থী নেতার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে এগোতে চলেছে।
❤ Support Us







