- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- জুলাই ২০, ২০২৪
অশান্তির বাংলাদেশে জারি কারফিউ।বাতিল ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা।দেশে ফিরছেন ভারতীয়রা
সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল গোটা বাংলাদেশ। বিক্ষোভ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট প্রভৃতি কারণে সারা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কন্রাড সাংমা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পাঠরত ৪০৫ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মিধ্যে ৮০ জন মেঘালয় রাজ্যের অধিবাসী। বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, ওই দেশে প্রায় ১৫০০০ ভারতীয় কর্মসূত্রে বসবাস করেন, যার মধ্যে ৮৫০০ জন শিক্ষার্থী। রণধীর জানিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে নিরাপদে আছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৪০০ জন ভারতীয় দেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নেপালি ছাত্রছাত্রীকে ভারত সরকার নিজেদের উদ্যোগে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ।
পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ১০৫ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক হয় যে দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা , টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা , টিভিতে সম্প্রচার বন্ধ থাকে। সে দেশে শুক্রবার রাত থেকে কারফিউ জারি হয়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান( স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কারিগরি প্রতিষ্ঠান) এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলি আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পূর্ব রেলের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৩১০৮ কলকাতা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি শনিবার বন্ধ থাকবে। রবিবার ১৩১২৯/১৩১২০ কলকাতা – খুলনা এক্সপ্রেস রবিবার বন্ধ থাকবে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রথম সারির সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। সে দেশের প্রথম সারির অনেক সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট হ্যাক করার অভিযোগ মিলেছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকারদের এই গ্রুপটির নাম THE R3SISTANC3। এমনকি বাংলাদেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক , প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দফতর এবং পুলিশের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে তারা। পি এম ও-র ওয়েবসাইটে একটি বার্তায় লেখা হয়েছে, “স্টপ কিলিং স্টুডেন্টস” এবং তারপরে, রক্তে লাল বড় বড় অক্ষরে: “এটি আর প্রতিবাদ নয়। এটা এখন যুদ্ধ।”
শুক্রবার পর্যন্ত অশান্তি চলার পর এখন বাংলাদেশের রংপুরে চালু হয়েছে কারফিউ।রংপুরের প্রধান সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই ঢাকা ব্যাংকের বুথে ভাঙচুর চালায় বিক্ষভকারিরা। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারিরা। আন্দোলনের মূল সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। সে দেশের রাজধানী ঢাকা শহরে বিভিন্ন স্থানে সেনার চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নজরদারি চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘এটা অবশ্যই কারফিউ। এটা নিয়ম অনুযায়ীই হবে এবং সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে’।
বাংলাদেশের অশান্তি গিয়ে পৌঁছেছে সুদূর বিলেতে। লন্ডনে সে দেশের অনাবাসী বাংলাদেশিরা লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে শহর কলকাতার। সে দেশে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে গত বৃহস্পতিবার একাডেমী অফ ফাইন আর্টস থেকে বামমনস্ক শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাদের যাত্রাসঙ্গী হন মানবাধিকার কর্মীরাও। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনি, জার্মানি, কানাডা, হাঙ্গেরি এবং ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনেও চলছে প্রতিবাদ।
চাকরি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত । ২০১৮ সালেও একবার এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল দেশটি। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত ও ৪৪ শতাংশ সাধারণ ক্যাটেগরির জন্য নির্ধারিত ছিল। আবার এই ৫৬ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ সংরক্ষিত ছিল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়দের জন্য। বাকি ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ বিভিন্ন জেলার জন্য, জনজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ ও ১ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ওই ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণ তুলে দেন। কেবল জনজাতিদের ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণ বজায় রাখেন। তখনকার মতো আন্দোলন থেমে গেলেও আবার ২০২১ সালে তা মাথাচাড়া দেয়। ওই বছর সাতজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মীয় হাসিনা সরকারের ওই সংরক্ষণ বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান। চলতি বছর ৫ জুন সে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে । হাইকোর্ট জানিয়েছে, হাসিনা সরকারের নির্দেশ অবৈধ। এর অর্থ আবার ২০১৮-র পূর্ববর্তী সংরক্ষণ আইন জারি থাকবে। ফলে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রতিবাদে নামেন। তাঁদের দাবি সবরকমের কোটা বাতিল করুক সরকার। হাসিনা সরকারের তরফে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, হাইকোর্টের সম্পূর্ণ রায় প্রকাশ হওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। আগামী রবিবার ২১ জুলাই সে শুনানি হওয়ার কথা।
❤ Support Us






