Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫

প্রতিনিধিত্ব সমীকরণ, ভোটপদ্ধতি বদলের দাবিতে আন্দোলনে জামাত, নির্বাচনী আবহে পাল্টা রাজনীতি খালেদা জিয়ার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রতিনিধিত্ব সমীকরণ, ভোটপদ্ধতি বদলের দাবিতে আন্দোলনে জামাত, নির্বাচনী আবহে পাল্টা রাজনীতি খালেদা জিয়ার

সামনে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আরো একবার সরগরম হয়ে উঠছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটপদ্ধতির দাবিতে জামায়াতসহ একাধিক কট্টর ধর্মভিত্তিক দল যখন যুগপৎ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তখন ভিন্ন পথ বেছে নিল বিএনপি। আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিরোধী শিবিরের অন্যতম বড়ো দলটি গোটা দেশে তৈরি করছে নির্বাচনী আবহ।
জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি প্রচার, জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়া, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও দলীয় ৩১ দফা তুলে ধরার কর্মসূচি শুরু করছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে ঢাকার বিনপি কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, জামায়াতের লক্ষ্য নির্বাচনের আগে মাঠ দখলে রাখা। আর তাই পাল্টা হিসেবেই বিএনপি নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ত কাজে নামতে নির্দেশ দিয়েছে। খালেদা জিয়ার দলের একাধিক নেতা বলেছেন, জামায়াত একদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করছে, অন্যদিকে গণসংযোগ বাড়াচ্ছে। আমরা যদি শুধু দেখেশুনে থাকি, তাহলে মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস-সহ সমমনাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তবে বিএনপির বিশ্লেষণ, এসব কর্মসূচি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলার জন্য নয়, বিএনপিকেও কোণঠাসা করার কৌশল। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জারি রাখতে দলের নেতারা ভোটকেন্দ্রিক কার্যক্রমকেই উত্তম বলছেন। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরো আলোচনা হয়, অন্য বিরোধী দলগুলিকে জামায়াতের দিকে টেনে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধেও কৌশল নিতে হবে। সূত্রের দাবি, জামায়াতের বাইরে থাকা দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ দলগুলিকে সতর্ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতির দাবিতে একসময় জামায়াতের সঙ্গে একমত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব রেখে চলছেন তারা। এনসিপির অন্দরের একাংশ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় অনিচ্ছুক। বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত কৌশলী অবস্থান নিলেও ভোটের সময় ঘনিয়ে এলে অবস্থান পাল্টানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্য দিকে জামায়াত সরাসরি আন্তর্জাতিক মহলেও চাপ তৈরি করছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দলটির প্রধান সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের ফের দাবি তুলেছেন, ‘বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে হতে হবে।’ তাঁর যুক্তি, এতে টাকার খেলা ও সহিংসতা কমবে, একই সঙ্গে ছোট দলগুলিও সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাবে। প্রসঙ্গত, কয়েকটি দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর, আবার কোথাও আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও নির্দিষ্ট কিছু আসন এ নিয়মে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভাগ করা হয়। মূলত সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল যে হারে ভোট পায়, সেই অনুপাতে সংসদে তাদের আসন নির্ধারিত হয়। ফলে বড়ো দলগুলির জন্য এটি তুলনামূলকভাবে অস্বস্তিকর হলেও মাঝারি ও ক্ষুদ্র দলগুলির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশে নির্বাচন যতই কাছে আসবে, বিরোধী অঙ্গনের এই দ্বন্দ্ব ও সমঝোতা—২টিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। জামায়াত যেখানে সংস্কার ও নতুন ভোটপদ্ধতির দাবিতে সরব, সেখানে বিএনপি সরাসরি ভোটকেন্দ্রিক প্রচারে ঝুঁকছে। অন্যদিকে মারণ কামড় দিতে পারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও। আগামী মাসগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন পথে হাঁটার এত কৌশল ও বিরোধ আদতে কোথায় গিয়ে মিলবে তা বলা মুশকিল। সুষ্ঠ নির্বাচনের আশায় থাকা বাঙালি জনগণের মনে আশঙ্খা ও আকাঙ্ক্ষা দুইই আপাতত ফিরে ফিরে আসছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!