- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ৭, ২০২৫
খিলাফলের দাবিতে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর মিছিলে উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথ, উঠল ভারত বিদ্বেষী স্লোগান। হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ পুলিশের
বাংলাদেশের খাতায় কলমে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ হিযবুত তাহরীর খিলাফতের দাবিতে মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ঢাকায়। সে দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘাত বাঁধে মিছিলকারীদের। মারমুখি হিযবুত সমর্থকদের আটকাতে মিছিলে টিয়ারশেল ও সাউন্ডগ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েক জনকে।
বাংলাদেশে কয়েকদিন আগে, ৭ মার্চ ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হিযবুত তাহ্রীর। সচিবালয় অভিযানেরও ডাক দেওয়া হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য হল, বাংলাদেশে ইসলাম অনুসারে শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এ সংক্রান্ত পোস্টার দেখা গেছে। এদিন ওই এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ব়্যাব। ঘন ঘন টহলদারি চালাচ্ছিল সেনা। মজুত রাখা হয়েছিল প্রিজন ভ্যান, এমনকী সাঁজোয়া গাড়ি। তবুও মিছিলের কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি হিযবুত। শুক্রবার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের গেট থেকে ব্যানার-পতাকা নিয়ে মিছিল শুরু করে ওই সংগঠন। উঠতে থাকে ইসলামি খিলফতের স্লোগান, এমনকি ভারতবিদ্বেষী স্লোগানে মুখর হয় ঢাকার রাজপথ। কিছুদূর এগোতেই পুলিশ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মিছিল এগোতে থাকে। পল্টন মোড়ে পুলিশ আবার মিছিল আটকাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট-পাটকেল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ, ছোঁড়া হয় সাউন্ডগ্রেনেড। এরপর লাঠিচার্জ করা হয়। এর পরে আন্দোলনকারীরা মূল সড়ক থেকে অলিগলিতে ঢুকে বিক্ষিপ্ত ভাবে হামলা চালান বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠছে, জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও হিজবুত সমর্থকদের আটকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক, শ্রমিক, বেকার যুবকদের আন্দোলন দমনে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করে। লাঠিপেটা, জলকামানও ব্যবহার করে। কিন্তু নিষিদ্ধ এই সংগঠনের মোকাবিলায় পুলিশ তেমন সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ। ঢাকা মহানগর পুলিশের র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘হিজবুত একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী। তাদের কাজকর্ম যেহেতু আমজনতার প্রতি আক্রমণাত্মক ও ক্ষতিকর, সেই কারণেই ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার এই গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন আইন অনুসারে, হিজবুত-সহ এই ধরনের যেকোনও সংগঠন বা গোষ্ঠীর তরফে ঘোষিত বা আয়োজিত সমস্ত ধরনের মিটিং, মিছিল, সমাবেশ প্রভৃতি কর্মসূচিই ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। যাঁরা সেই অপরাধ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত বছর বাংলাদেশে ‘গণ অভ্যুত্থান’-এ হাসিনা সরকারের পতন হলে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আইএসের পতাকা নিয়ে মিছিল করার অভিযোগ উঠেছিল হিযবুতের বিরুদ্ধে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহম্মদ ইউনূসের সহকারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহফুজ আলমের সঙ্গে হিযবুতের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও বর্তমান সরকারের আমলেও ‘নিষেধাজ্ঞা’ থেকে মুক্তি পায়নি ওই সংগঠন। বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ২২ই অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রেসনোট জারি করে হিযবুত তাহ্রীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই প্রেসনোটে সংগঠনটিকে ‘শান্তি শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
❤ Support Us







