Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫

বাংলায় বে-আইনি সিম-কার্ডের রমরমা, সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে যোগসূত্রের সম্ভাবনা!

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাংলায় বে-আইনি সিম-কার্ডের রমরমা, সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে যোগসূত্রের সম্ভাবনা!

ভারতে ৯টির বেশি সিম ব্যবহার করা আইনত অপরাধ। এর জন্য হতে পারে জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ড। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ৪ লক্ষের বেশি মানুষ ৯ টির বেশি সিম ব্যবহার করেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে যোগসূত্র থাকবার সম্ভাবনা।

কেন্দ্র সরকারের টেলিকম বিভাগের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলায় ৯ টিরও বেশি সিমকার্ড ব্যবহার করেন ৪ লক্ষের বেশি মানুষ। সাইবার জালিয়াতির সাথে এর যোগ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা কেন্দ্রীয় সংস্থার। গত ৫ বছরে বাংলায় প্রায় ১৪ লাখ বেআইনি সিমকার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন কল সেন্টার গুলিতে অভিযান চালিয়ে এরকম কয়েক লক্ষ সিম উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু আর্থিক জালিয়াতির কাজে নয়, নানান অপরাধমূলক কাজ ও জঙ্গি নাশকতার কাছে এগুলির ব্যবহার হতে পারে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লির টেলিকম মন্ত্রী ড. প্রেমাসানি চন্দ্রশেখর এই বিষয়ে সংসদে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্যকে কড়া প্রশ্ন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বেশ কিছু সেক্টরে যে কৌশলগত সুবিধে মেলে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী প্রেমাসানি এবং এই তথ্য প্রকাশ পেলে, সেই সমস্ত সেক্টরের কাছে উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে সিম কার্ড ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। যেমন জম্মু ও কাশ্মীর, আসাম এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে প্রতি ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৬টি সিম রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। নতুন কোনো নিয়ম আনবার পরিকল্পনাও কেন্দ্রের আপাতত নেই।

অতিরিক্ত সংখ্যায় সিমকার্ড ব্যবহারের কারণে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে দেশে, আর তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এই জালিয়াতি ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘টেলিকম বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, বড় মাপের ডেটা অ্যানালিটিক টুল ব্যবহার করে এই ধরনের সংযোগগুলি যাচাই করার জন্য। নির্ধারিত সীমার বাইরে সিমকার্ড নেওয়া হলে তা সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন সুরক্ষিত ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া হয়। আর সীমা পেরিয়ে গেলে পরবর্তী মোবাইল নম্বরগুলির সংযোগ বাতিল করে দেওয়া হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সীমানা রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় এসেছে ড.ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওপার বাংলায় চলছে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা। ভারতের সাথে সু-সম্পর্ক, তিক্ততার পর্যায়ে চলে গেছে। দিল্লীর তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে নাশকতা ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বেআইনি ভাবে দেশে প্রবেশ করছে। ফলে এই সিমকার্ডের পরিসংখ্যান অন্য কোন দিকে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে, তা বলা যাচ্ছে না। গত মাসে কলকাতা ও বিধাননগরে সিমকার্ড জালিয়াতি চক্রের পান্ডাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের টার্গেট করত। যাঁরা নতুন সিমকার্ড নিতে আসতেন, তাঁদের নথি দিয়ে প্রসেসিং করত। পরে, বলা হত টেকনিক্যাল কারণে প্রসেসিং হচ্ছে না। তাই সিমকার্ড দেওয়া যাবে না। গ্রাহক চলে যেতেন। কিন্তু, তাঁর নথি দিয়ে প্রসেসিং করে সিমকার্ড তুলে নিত তারা। এভাবেই তাঁরা অসংখ্য সিমকার্ড অ্যাক্টিভেট করেছেন। গত বছরের জুন মাসে নতুন টেলিকম আইন চালু করে কেন্দ্র। ওই আইন অনুসারে, ন’টির বেশি সিম ব্যবহার করা অপরাধ। প্রথম বার আইন ভাঙলে, সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একাধিকবার একই অপরাধ করলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার হতে পারে। এমনকি ৩ বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে এই অপরাধের কারণে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!