- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫
কেরলে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক
কদিন আগেই ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক বাঙালি শ্রমিকের। আবার মৃত্য হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম অভিজিৎ পোদ্দার ওরফে রাজু। বছর পঁয়ত্রিশের অভিজিতের বাড়ি বারাসতের নেতাজি পল্লীতে। কেরলে কর্মরত অবস্থায় তিনি মারা যান। অভিজিতের মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কেরলের তুতকুড়ি জেলার ত্রিচন্দুর এলাকায় এক বেসরকারি সংস্থার ঠিকাদার শ্রমিক হিসেবে মন্দির নির্মাণের কাজ করছিলেন অভিজিৎ। কাজ করার সময় পা পিছলে তিন তলা থেকে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সঙ্গে সহ্গে অন্য শ্রমিকরা তাঁকে স্থানীয় একটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সেখানেই অভিজিতের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিজিতের এক সহকর্মী ফোন করে তাঁর বাড়িতে মৃত্যুর খবর জানান।
শুক্রবারই অভিজিতের মৃতদেহ কেরল থেকে ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। রবিবার বারাসতে নিজের বাড়িতে তাঁর দেহ পৌঁছনোর কথা। বৃদ্ধ বাবা–মা, দাদা ছাড়াও বাড়িতে অভিজিতের স্ত্রী এবং এক বছরের সন্তান রয়েছে। অভিজিতের কাকা প্রকাশ পোদ্দার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বেশি রোজগারের আশায় দিন পনের আগে কেরলে গিয়েছিল নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওর এক সহকর্মী ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। ওর এভাবে মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বাড়িতে স্ত্রী এবং এক বছরের সন্তান রয়েছে। তাদের কথা ভেবে সরকার যদি পাশে দাঁড়ায় তাহলে পরিবারটা বেঁচে যাবে।’
এদিকে, সরকারের সাহায্যের ব্যাপারে বারাসত জেলা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পোর্টাল খোলা হয়েছে। কোনও অসুবিধা হলে পরিযায়ী শ্রমিকরা সেখানে আবেদন করতে পারে। প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তেমন কোনও আবেদন এসেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য গোপাল রায় বলেন, ‘ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সুরক্ষার অভাব রয়েছে। যে বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এই নির্মাণ কাজ চলছিল তাদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে সবসময় রয়েছি। পরিবার যাতে আর্থিক সাহায্য পায় সেই দিকটাও দেখব।’
❤ Support Us





